০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের হাতছানি

বেঙ্গল আই ডেস্ক | অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে চীন সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। তাঁর এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর মূল কর্মসূচি ও প্রত্যাশা

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।

একনজরে সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

বিষয়বিবরণ
সম্ভাব্য চুক্তি (MoU)১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও প্রটোকল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
দালিয়ানে কর্মসূচিবিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ অধিবেশনে প্রধান বক্তা।
বেইজিংয়ে কর্মসূচিচীনের কমিউনিস্ট পার্টি (CPC), এক্সিম ব্যাংকসহ উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠক।
বিনিয়োগ ফোরামআগামী ২৫ জুন বিডা (BIDA) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে যোগদান।

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে এই বাণিজ্যের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

  • রপ্তানি বাড়ানোর তাগিদ: তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
  • বিআরআই ও জিডিআই (BRI & GDI): বাংলাদেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।”

তিনি বিনিয়োগ টানতে সুস্পষ্ট নীতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখেন তিনি।

অন্যদিকে, চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসি-এর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু জানান, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। ২৫ জুনের ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করবে—বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
১৭২ Time View

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের হাতছানি

Update Time : ০৯:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে চীন সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। তাঁর এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর মূল কর্মসূচি ও প্রত্যাশা

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।

একনজরে সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

বিষয়বিবরণ
সম্ভাব্য চুক্তি (MoU)১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি ও প্রটোকল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
দালিয়ানে কর্মসূচিবিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ অধিবেশনে প্রধান বক্তা।
বেইজিংয়ে কর্মসূচিচীনের কমিউনিস্ট পার্টি (CPC), এক্সিম ব্যাংকসহ উচ্চপর্যায়ের সংস্থার সঙ্গে বৈঠক।
বিনিয়োগ ফোরামআগামী ২৫ জুন বিডা (BIDA) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে যোগদান।

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে এই বাণিজ্যের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

  • রপ্তানি বাড়ানোর তাগিদ: তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে এই ঘাটতি কমানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
  • বিআরআই ও জিডিআই (BRI & GDI): বাংলাদেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।”

তিনি বিনিয়োগ টানতে সুস্পষ্ট নীতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশি টাকা ও চীনা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখেন তিনি।

অন্যদিকে, চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি সিসিইসিসি-এর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু জানান, চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। ২৫ জুনের ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ চীনা ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবেন বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করবে—বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর।