‘প্রবাসী ভাইদের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব’: প্রধানমন্ত্রী
বেঙ্গল আই ডেস্ক | কুয়ালালামপুর
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে দেশটির সরকারপ্রধানের সঙ্গে জোরালো আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে প্রবাসীদের শুধু দাবির কথা না ভেবে, দেশের প্রতি নিজেদের কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংরি-লায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সরাসরি ওই হোটেলে পৌঁছান তিনি।
‘দাবি নয়, আসুন দেশের প্রতি কর্তব্যের কথা ভাবি’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
- তিনি বলেন, “প্রবাসীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে। আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি।”
- প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশ থেকে কী নেব, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি।”
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার বিষয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলব। চেষ্টা করব এ দেশের আইনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করতে।”
স্বৈরাচারমুক্ত দেশ পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ দেশ থেকে কেউ একজন, একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে। দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি।”
মতবিনিময়কালে তিনি দেশ গঠনে নিজের বিভিন্ন চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি প্রবাসীদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
‘বাংলাদেশি ভাইরা কুয়ালালামপুর পরিষ্কার রাখলে, দেশ কেন নয়?’
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে—আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি আসার সময় কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে এবং এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে। আমার দেশের ভাইরা যদি এখানে এত সুন্দর কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না?”
প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিগত দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনের সময় এবং তারপরেও আমার সাথে, আমার মায়ের সাথে, আমার ভাইয়ের সাথে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা কল্পনা করা যায় না।”
তবে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হয়তো অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটা করি, তাতে উপকার কী হবে? কারও উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”
আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক:
উল্লেখ্য, দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার (২২ জুন) সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





















