০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের নতুন দুয়ার

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি।”

তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরের সময় আমার মনে আছে, আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তাঁর সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মা বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন, যা আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল।”

উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, মুক্ত বাণিজ্য ও স্থিতিশীল রাজনীতি

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, পারস্পরিক আস্থা এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

  • যোগাযোগ বৃদ্ধি: যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
  • মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।
  • খাতভিত্তিক আলোচনা: আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।”

প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন এবং তাদের এই অবদান সমাজ ও অর্থনীতি উভয়ের জন্যই অত্যন্ত উপকারী।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:১৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
৫২ Time View

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

Update Time : ০৪:১৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে নিজের সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের নতুন দুয়ার

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি।”

তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরের সময় আমার মনে আছে, আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তাঁর সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মা বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন, যা আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল।”

উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, মুক্ত বাণিজ্য ও স্থিতিশীল রাজনীতি

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, পারস্পরিক আস্থা এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।

বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

  • যোগাযোগ বৃদ্ধি: যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
  • মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।
  • খাতভিত্তিক আলোচনা: আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।”

প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন এবং তাদের এই অবদান সমাজ ও অর্থনীতি উভয়ের জন্যই অত্যন্ত উপকারী।