০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে সিনথেটিক মাদকের ‘নীরব সুনামি’: ইয়াবার জায়গা নিচ্ছে ল্যাবে তৈরি মরণনেশা

বেঙ্গল আই ডেস্ক | চট্টগ্রাম

মাদকের অন্ধকার জগতে এখন শুরু হয়েছে ল্যাবে তৈরি সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের এক ‘নীরব সুনামি’। ইয়াবা ও গাঁজার মতো চিরাচরিত মাদকের বলয় ভেঙে বর্তমানে বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর সব সিনথেটিক মরণনেশা।

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আসক্তি ও নতুন মাদকের অনুপ্রবেশ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিগত ছয় বছরের পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে সিনথেটিক নেশায় আসক্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের মাদকের বাজারে যুক্ত হয়েছে এমডিএমবি (MDMB), এমডিএমএ (MDMA) বা ডিএমটির (DMT) মতো সম্পূর্ণ অপরিচিত ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সব মাদক।

কেন বাড়ছে সিনথেটিক মাদকের ক্রেজ?

প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে সিনথেটিক মাদকের দিকে কেন তরুণরা বেশি ঝুঁকছে, সে বিষয়ে কথা বলেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

  • মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “পুরো বিশ্বেই এখন সিনথেটিক মাদক আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে। মাদক মাফিয়ারা প্রতিনিয়ত ল্যাবে নতুন নতুন মাদক তৈরি করছে, আর সেই ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশেও।”
  • সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ল্যাবে তৈরি এসব সিনথেটিক মাদক খুব দ্রুত আসক্তি তৈরি করে এবং সেবনকারীদের মধ্যে মারাত্মক এক ক্রেজ সৃষ্টি করে। এ কারণেই প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে ল্যাবে তৈরি এসব মাদকের প্রতি আসক্তদের ঝোঁক দিন দিন বাড়ছে।

আইনি ফাঁকফোকর ও শিডিউলের জটিলতা

দেশে সিনথেটিক মাদকের এই ব্যাপক বিস্তারের পেছনে আইনি ফাঁকফোকরের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম।

তিনি জানান, ল্যাবে তৈরি এসব নতুন নতুন সিনথেটিক মাদক এখনও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘শিডিউলভুক্ত’ হয়নি। ফলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেকটাই জটিল হয়ে পড়ে। শিডিউলভুক্ত মাদকের চেয়ে এসব নতুন মাদক বেচাকেনা এবং বহন করা পাচারকারীদের জন্য অনেকটা নিরাপদ ও সহজ। তাছাড়া এগুলো দ্রুত আসক্তি তৈরি করায় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে সিনথেটিক মাদকের এই ভয়ংকর বিস্তারের চিত্র আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৫৮ Time View

দেশে সিনথেটিক মাদকের ‘নীরব সুনামি’: ইয়াবার জায়গা নিচ্ছে ল্যাবে তৈরি মরণনেশা

Update Time : ০৬:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | চট্টগ্রাম

মাদকের অন্ধকার জগতে এখন শুরু হয়েছে ল্যাবে তৈরি সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের এক ‘নীরব সুনামি’। ইয়াবা ও গাঁজার মতো চিরাচরিত মাদকের বলয় ভেঙে বর্তমানে বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর সব সিনথেটিক মরণনেশা।

জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আসক্তি ও নতুন মাদকের অনুপ্রবেশ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিগত ছয় বছরের পরিসংখ্যান এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে সিনথেটিক নেশায় আসক্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের মাদকের বাজারে যুক্ত হয়েছে এমডিএমবি (MDMB), এমডিএমএ (MDMA) বা ডিএমটির (DMT) মতো সম্পূর্ণ অপরিচিত ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সব মাদক।

কেন বাড়ছে সিনথেটিক মাদকের ক্রেজ?

প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে সিনথেটিক মাদকের দিকে কেন তরুণরা বেশি ঝুঁকছে, সে বিষয়ে কথা বলেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

  • মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “পুরো বিশ্বেই এখন সিনথেটিক মাদক আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে। মাদক মাফিয়ারা প্রতিনিয়ত ল্যাবে নতুন নতুন মাদক তৈরি করছে, আর সেই ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশেও।”
  • সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ল্যাবে তৈরি এসব সিনথেটিক মাদক খুব দ্রুত আসক্তি তৈরি করে এবং সেবনকারীদের মধ্যে মারাত্মক এক ক্রেজ সৃষ্টি করে। এ কারণেই প্রাকৃতিক মাদকের চেয়ে ল্যাবে তৈরি এসব মাদকের প্রতি আসক্তদের ঝোঁক দিন দিন বাড়ছে।

আইনি ফাঁকফোকর ও শিডিউলের জটিলতা

দেশে সিনথেটিক মাদকের এই ব্যাপক বিস্তারের পেছনে আইনি ফাঁকফোকরের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম।

তিনি জানান, ল্যাবে তৈরি এসব নতুন নতুন সিনথেটিক মাদক এখনও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘শিডিউলভুক্ত’ হয়নি। ফলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেকটাই জটিল হয়ে পড়ে। শিডিউলভুক্ত মাদকের চেয়ে এসব নতুন মাদক বেচাকেনা এবং বহন করা পাচারকারীদের জন্য অনেকটা নিরাপদ ও সহজ। তাছাড়া এগুলো দ্রুত আসক্তি তৈরি করায় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে সিনথেটিক মাদকের এই ভয়ংকর বিস্তারের চিত্র আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।