০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীন ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর: বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা

বেঙ্গল আই ডেস্ক | বেইজিং, চীন

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় এই উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর সম্পন্ন হবে এবং আজ রাতেই তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।

তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সঙ্গে ঐকমত্য

তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

  • প্রধানমন্ত্রী দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা চান।
  • একইসঙ্গে তিনি ‘তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এ চীন সরকারের সরাসরি কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

পরবর্তী ‘এশীয় বিস্ময়’ রচনায় চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান

বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সম্মেলনে ১২৫ জন শীর্ষ চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনতে আমরা একটি কঠোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”

দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সমঝোতা

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে চীনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। আলোচনা শেষে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বিএনপি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল

চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে ভূরাজনৈতিক কৌশল, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন:

নামপদবি/দায়িত্ব
ড. খলিলুর রহমানপররাষ্ট্রমন্ত্রী
জহির উদ্দিন স্বপনতথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতজ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
হুমায়ুন কবিরপররাষ্ট্র উপদেষ্টা
রাশেদ হাসান আল মাহমুদ তিতুমীরঅর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
মাহদী আমিনশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা

মালয়েশিয়া ও চীনে টানা ছয় দিনের অত্যন্ত সফল ও কর্মব্যস্ত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (শুক্রবার) রাতে প্রতিনিধিদলসহ দেশে ফিরবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৩৯ Time View

বাংলাদেশ-চীন ১৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর: বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা

Update Time : ০৫:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | বেইজিং, চীন

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় এই উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর সম্পন্ন হবে এবং আজ রাতেই তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।

তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সঙ্গে ঐকমত্য

তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

  • প্রধানমন্ত্রী দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা চান।
  • একইসঙ্গে তিনি ‘তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এ চীন সরকারের সরাসরি কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

পরবর্তী ‘এশীয় বিস্ময়’ রচনায় চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান

বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সম্মেলনে ১২৫ জন শীর্ষ চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনতে আমরা একটি কঠোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”

দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সমঝোতা

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে চীনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। আলোচনা শেষে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বিএনপি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল

চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে ভূরাজনৈতিক কৌশল, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন:

নামপদবি/দায়িত্ব
ড. খলিলুর রহমানপররাষ্ট্রমন্ত্রী
জহির উদ্দিন স্বপনতথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতজ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
হুমায়ুন কবিরপররাষ্ট্র উপদেষ্টা
রাশেদ হাসান আল মাহমুদ তিতুমীরঅর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
মাহদী আমিনশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা

মালয়েশিয়া ও চীনে টানা ছয় দিনের অত্যন্ত সফল ও কর্মব্যস্ত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (শুক্রবার) রাতে প্রতিনিধিদলসহ দেশে ফিরবেন।