০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র কারবারিদের দমনে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

মাদক কারবারিদের সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে শক্ত হাতে দমন করতে এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ পরিবহন সুবিধাও দেওয়া হবে। এছাড়া, মাদকসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে দেশে একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

মামলা জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে।

এই বিশাল মামলার জট দ্রুত নিরসন করতে সরকার মাদক মামলার জন্য একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করেছে। তবে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও আগের মতো এসব মামলার বিচারকাজ চালিয়ে যাবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি

মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মাদক কারবারিদের অনেকেরই নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে আত্মরক্ষার জন্য কোনো অস্ত্র নেই। এমনকি গ্রেপ্তারের পর আসামিদের থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানাও নেই।”

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে:

  • আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ: অভিযানে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে।
  • ডগ স্কোয়াড গঠন: মাদক তল্লাশি ও পাচার রোধে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হবে।
  • নিজস্ব হাজতখানা ও পরিবহন: আসামিদের সাময়িক হেফাজতে রাখতে নিজস্ব হাজতখানা নির্মাণ এবং উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এ জন্য বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর দেশব্যাপী আরও জোরালো ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

দেশে মাদকাসক্তের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে মাদক ব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিদ্যমান কাঠামো দিয়ে এই বিশাল সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করা কঠিন বলেই নতুন আইনি কাঠামো ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে অনুদান

দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেশ কয়েকটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
৮৮ Time View

সশস্ত্র কারবারিদের দমনে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৫:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

মাদক কারবারিদের সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে শক্ত হাতে দমন করতে এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ পরিবহন সুবিধাও দেওয়া হবে। এছাড়া, মাদকসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে দেশে একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

মামলা জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে।

এই বিশাল মামলার জট দ্রুত নিরসন করতে সরকার মাদক মামলার জন্য একটি পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করেছে। তবে নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও আগের মতো এসব মামলার বিচারকাজ চালিয়ে যাবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি

মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ের জন্য বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মাদক কারবারিদের অনেকেরই নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে আত্মরক্ষার জন্য কোনো অস্ত্র নেই। এমনকি গ্রেপ্তারের পর আসামিদের থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানাও নেই।”

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে:

  • আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ: অভিযানে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে।
  • ডগ স্কোয়াড গঠন: মাদক তল্লাশি ও পাচার রোধে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হবে।
  • নিজস্ব হাজতখানা ও পরিবহন: আসামিদের সাময়িক হেফাজতে রাখতে নিজস্ব হাজতখানা নির্মাণ এবং উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এ জন্য বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর দেশব্যাপী আরও জোরালো ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

দেশে মাদকাসক্তের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে মাদক ব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিদ্যমান কাঠামো দিয়ে এই বিশাল সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করা কঠিন বলেই নতুন আইনি কাঠামো ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে অনুদান

দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেশ কয়েকটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।