সড়ক-রেলখাতে ব্যাপক বরাদ্দ: ৩ হাজার কি.মি. এক্সপ্রেসওয়ে ও মনোরেল নির্মাণের ঘোষণা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় সংসদ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক ও রেলপথ খাতের সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিশাল বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
একনজরে সড়ক ও রেলপথ খাতের বাজেট ও পরিকল্পনা:
| খাতের নাম | প্রস্তাবিত বরাদ্দ | মূল উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা |
| সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক | ৩৬,৯১৭ কোটি টাকা | ৩ হাজার কি.মি. আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ১০৬টি চলমান প্রকল্পের কাজ সম্পন্নকরণ। |
| রেলপথ খাত | ৯,৯৪১ কোটি টাকা | ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন, ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা, সৌরবিদ্যুৎ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংযোজন। |
(বি.দ্র. সড়ক পরিবহন খাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০,৭৪১ কোটি টাকা।)
রাজধানীর যানজট নিরসন ও ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থা
ঢাকার যানজট নিরসনে সরকারের যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন:
- টার্মিনাল স্থানান্তর: ঢাকার অভ্যন্তরে থাকা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করা হবে।
- মনোরেল ও ইভি: যানজট কমাতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
- দক্ষ চালক তৈরি: ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থাকে দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার দেশব্যাপী ৫ লাখ দক্ষ চালক তৈরির বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
রেলপথের আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবা বৃদ্ধি
রেলপথ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনে ইন্টারনেট (ওয়াই-ফাই) সেবা চালু, প্রতিটি রেলস্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নতুন কোচ সংযোজনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ও স্থানীয় উন্নয়ন
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, “৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা।” নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকা (ঢাকা-৯) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ওই এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় সুখবর।





















