০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় সংসদ

বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও ‘ভ্যানিটি প্রজেক্টের’ কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এই সংকট উত্তরণে কাজ করছে। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে একটি নতুন ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “তরুণদের চাকরির জন্য আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।”

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল। তিনি এর কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন:

  • হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার এবং স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহ বিপর্যয়।
  • উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়া।
  • পুঁজিবাজারে ধস, যার ফলে সর্বস্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা।
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি।
  • ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা অহেতুক মেগা প্রকল্পের কারণে দেশি-বিদেশি ঋণের বিশাল বোঝা।

বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“আমরা দেশের এই অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করতে চাই না, তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।”

বাজেট ২০২৬-২৭: অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির রূপকল্প

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত এবারের বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির রূপকল্প হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের ৩টি ধাপ

সংকট মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সুনির্দিষ্ট তিন ধাপের অর্থনৈতিক কৌশল সংসদে উপস্থাপন করেন:

ধাপমূল লক্ষ্য ও কৌশল
প্রথম ধাপমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয় ধাপরাজস্ব খাতে কাঠামোগত সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ।
চূড়ান্ত ধাপউৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা।

কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য নতুন বার্তা

প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়, তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়।”

ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলবে বর্তমান সরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
৮২ Time View

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৭:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় সংসদ

বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও ‘ভ্যানিটি প্রজেক্টের’ কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এই সংকট উত্তরণে কাজ করছে। তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে একটি নতুন ও উৎপাদনমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “তরুণদের চাকরির জন্য আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।”

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল। তিনি এর কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন:

  • হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার এবং স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহ বিপর্যয়।
  • উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়া।
  • পুঁজিবাজারে ধস, যার ফলে সর্বস্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা।
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি।
  • ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা অহেতুক মেগা প্রকল্পের কারণে দেশি-বিদেশি ঋণের বিশাল বোঝা।

বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“আমরা দেশের এই অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করতে চাই না, তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।”

বাজেট ২০২৬-২৭: অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির রূপকল্প

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত এবারের বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির রূপকল্প হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের ৩টি ধাপ

সংকট মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সুনির্দিষ্ট তিন ধাপের অর্থনৈতিক কৌশল সংসদে উপস্থাপন করেন:

ধাপমূল লক্ষ্য ও কৌশল
প্রথম ধাপমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয় ধাপরাজস্ব খাতে কাঠামোগত সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ।
চূড়ান্ত ধাপউৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা।

কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য নতুন বার্তা

প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়, তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়।”

ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলবে বর্তমান সরকার।