ভারতের অরুণাচলে ঢুকে পড়ল চীনা সেনাবাহিনী, বিশাল এলাকা দখলের অভিযোগ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন অভিযোগ করেছে, চীনা বাহিনী সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পাশাপাশি আদিবাসীদের চারণভূমি ও কৃষিজমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আদিবাসী সংগঠনের উদ্বেগ ও স্মারকলিপি
আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ এই দখলদারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দিয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কেরু চাদের বলেন:
“ওই জমি আমাদের পূর্বপুরুষদের। সেখানে বহু যুগ ধরে আমাদের মানুষেরা শিকার, পশুচারণ এবং চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে আমরা অবাধে চলতাম, সেগুলো এখন চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। তাকসিং এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর তৎপরতার গতি ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে আমাদের নিজেদের ভূমি হারাচ্ছি।”
তাঁর দাবি, প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই মাঝেমধ্যে ওই এলাকাগুলোতে চীনের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ত। কিন্তু ২০২০ সালে তারা পাকাপাকিভাবে ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
যেসব এলাকায় চীনা বাহিনীর দখলদারি
স্মারকলিপির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে চীন। এলাকাগুলো হলো:
- আসফিলা এলাকার ওয়িং এবং পনিয়া (চুজার্তা এলাকা)
- মারপান
- পোত্রাং
- টিনডিংতাং
স্থানীয়দের কাছে এসব অঞ্চলের কয়েকটি স্থান পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত।
ভারতীয় সেনার অস্বীকৃতি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো জানিয়েছেন, বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত, তাই আদিবাসী সংগঠনের তোলা অভিযোগগুলো প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন বা রাজ্য সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গগত, কয়েক বছর আগে লাদাখেও একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চীনের বিরুদ্ধে। যদিও সে সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, চীন ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও দখল করতে পারেনি।





















