০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার, বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

দেশের সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং কোথাও আবার পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যে এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ অতিক্রম করেছে।

একনজরে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র:

বিবরণতথ্য
বন্যাকবলিত জেলাচট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা৫৯টি
পানিবন্দী পরিবার২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি
মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন
মোট প্রাণহানি৫১ জন (কক্সবাজারে ২৮, চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩, মৌলভীবাজারে ১)

চট্টগ্রামের চরম দুর্দশা ও রেকর্ড বৃষ্টিপাত

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি রয়েছে। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের শেলী আক্তারের মতো অসংখ্য মানুষ প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে মাচা বানিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির উৎস ডুবে থাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক এলাকায় রান্নাবান্নাও বন্ধ রয়েছে।

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ জুলাই থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার।

পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি

  • কক্সবাজার: বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি রয়েছে এবং কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
  • বান্দরবান: তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বান্দরবানের। সাঙ্গু নদীর পানি নামতে শুরু করলেও জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এবং বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে।
  • রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি: বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকলসহ রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরছেন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সিলেট বিভাগ ও অন্যান্য জেলার অবস্থা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের পর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার এবং মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলায় ৭ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রমা নদীর পানি বেড়েছে। নেত্রকোনার সব নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৪:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
৬০ Time View

৭ জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার, বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫১

Update Time : ০৪:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

দেশের সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং কোথাও আবার পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যে এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবিক সংকটে রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ অতিক্রম করেছে।

একনজরে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র:

বিবরণতথ্য
বন্যাকবলিত জেলাচট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা৫৯টি
পানিবন্দী পরিবার২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি
মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন
মোট প্রাণহানি৫১ জন (কক্সবাজারে ২৮, চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩, মৌলভীবাজারে ১)

চট্টগ্রামের চরম দুর্দশা ও রেকর্ড বৃষ্টিপাত

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর অনেক এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি রয়েছে। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের শেলী আক্তারের মতো অসংখ্য মানুষ প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে মাচা বানিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির উৎস ডুবে থাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক এলাকায় রান্নাবান্নাও বন্ধ রয়েছে।

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ জুলাই থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার।

পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের পরিস্থিতি

  • কক্সবাজার: বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি রয়েছে এবং কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
  • বান্দরবান: তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বান্দরবানের। সাঙ্গু নদীর পানি নামতে শুরু করলেও জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এবং বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে।
  • রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি: বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকলসহ রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরছেন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সিলেট বিভাগ ও অন্যান্য জেলার অবস্থা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের পর সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার এবং মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলায় ৭ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রমা নদীর পানি বেড়েছে। নেত্রকোনার সব নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।