জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (১৫ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
একনজরে রাষ্ট্রপতির বাণীর মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| উপলক্ষ | ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন |
| আহ্বানকারী | রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন |
| মূল আহ্বান | বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া |
| তাৎপর্যপূর্ণ দিন | ১৬ জুলাই (আবু সাঈদের শাহাদাতবরণ ও গণঅভ্যুত্থানের তীব্রতা বৃদ্ধি) |
| সরকারের অঙ্গীকার | শহীদদের সম্মান, পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা |
১৬ জুলাইয়ের তাৎপর্য ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ জুলাই এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদের অসামান্য অবদান তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের প্রসারিত হাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ এবং একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন তরুণের আত্মাহুতি এই আন্দোলনকে নতুন মোড় ও তীব্রতা দিয়েছিল। পরবর্তীতে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আটক, জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান সূচিত হয়।
রাষ্ট্রপতির মতে, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; বরং এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। এটি ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
আহতদের প্রতি সমবেদনা এবং সরকারের পদক্ষেপ
আন্দোলনে আহত সাহসী তরুণ-তরুণী ও যুবপ্রজন্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তাদের অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান-স্বীকৃতি, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মহৎ কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জনগণের ক্ষমতায়ন ও জুলাইয়ের চেতনা
রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মদান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্রের শক্তির উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক মূলত জনগণ। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শাশ্বত শান্তি কামনা করেন এবং ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।





















