০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যায় অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একনজরে আটকের মূল তথ্য:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাসাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় অভিযুক্ত আটক
আটককৃত ব্যক্তিঅবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন
পলাতক ছিলেনদীর্ঘ ৪৫ বছর
আটককারী সংস্থাগোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
পরবর্তী পদক্ষেপসেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান

দীর্ঘ ৪৫ বছরের পলাতক জীবন শেষে গ্রেপ্তার

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই আসামি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি।

সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

ডিবি আরও জানায়, আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সার্কিট হাউসের সেই কালরাত

১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে সার্কিট হাউসে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী দল তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো দেশবাসীর কাছে জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’

এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর মেজর মোজাফফর নিজেই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান,

‘The President has been killed.’

বিচার, সাজা ও দীর্ঘ ৪৫ বছরের আত্মগোপন

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৫৪ Time View

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যায় অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন

Update Time : ০৩:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একনজরে আটকের মূল তথ্য:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাসাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় অভিযুক্ত আটক
আটককৃত ব্যক্তিঅবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন
পলাতক ছিলেনদীর্ঘ ৪৫ বছর
আটককারী সংস্থাগোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
পরবর্তী পদক্ষেপসেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান

দীর্ঘ ৪৫ বছরের পলাতক জীবন শেষে গ্রেপ্তার

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এই আসামি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি।

সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

ডিবি আরও জানায়, আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সার্কিট হাউসের সেই কালরাত

১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে সার্কিট হাউসে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী দল তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো দেশবাসীর কাছে জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’

এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর মেজর মোজাফফর নিজেই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান,

‘The President has been killed.’

বিচার, সাজা ও দীর্ঘ ৪৫ বছরের আত্মগোপন

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।