জুলাইয়ের শেষ দিকে কিছু ছাত্রনেতা বিদেশি অপশক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল: নুর
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিনগুলোতে বিদেশি অপশক্তি কিছু ছাত্রনেতাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
একনজরে নুরুল হক নুরের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান | ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ সমাবেশ |
| বক্তা | নুরুল হক নুর (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী) |
| স্থান ও সময় | যাত্রাবাড়ী, ঢাকা (শুক্রবার, ১৭ জুলাই) |
| প্রধান অভিযোগ | আন্দোলনের শেষ ৫-৭ দিন ছাত্রনেতাদের ওপর বিদেশি প্রভাব |
| রাজনৈতিক মন্তব্য | এনসিপি নেতাদের জামায়াতের পকেটে ঢোকার সমালোচনা |
| প্রশংসা | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা |
| আহ্বান | রাজপথে হুংকার না দিয়ে সংসদে বসে সমস্যার সমাধান |
বিদেশি দূতাবাসের সংশ্লিষ্টতা ও অপশক্তির প্রভাব
সমাবেশে নুরুল হক নুর বলেন, “জুলাই ছিল দল-মত-নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। তবে আন্দোলনের শেষ পাঁচ-সাত দিনে আমাদের ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ বিদেশি অপশক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো বিদেশি দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাসায়ও তারা অবস্থান করেছিলেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, তখন থেকেই আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। আর এ কারণেই নির্বাচন প্রশ্নে সংকট তৈরি হলে রাজনৈতিক শক্তিগুলো দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক বয়ানের সমালোচনা
জুলাই আন্দোলনের একক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত দুই বছর ধরে আমরা বলে আসছি, জুলাইকে কোনো একক গোষ্ঠীর বয়ানে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। এটিকে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের মতো একক রাজনৈতিক ন্যারেটিভে রূপ দেওয়া যাবে না।” সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম আখ্যান তৈরি করে জনমত বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চুক্তি ও অপপ্রচার
অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চুক্তি প্রসঙ্গে ভিপি নুর বলেন, “দেশের স্বার্থপরিপন্থি জেনেও একটি অনির্বাচিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, তা ওই নিয়ন্ত্রণকারীদের সম্মতিতেই হয়েছিল। অথচ এখন সেই চুক্তির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
এনসিপি, জামায়াত ও তারেক রহমান প্রসঙ্গে মন্তব্য
নতুন দল এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) এবং জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কেও কথা বলেন নুর।
- এনসিপি প্রসঙ্গে: “এনসিপির নেতারা আমাদের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তবে তারা রাজনীতি শেখার ও বোঝার আগেই জামায়াতের পকেটে ঢুকে পড়েছে। এতে তারা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
- জামায়াত প্রসঙ্গে: জামায়াতে ইসলামীকে সব ধরনের ‘গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম’ থেকে বিরত থেকে প্রকাশ্য রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
- তারেক রহমান প্রসঙ্গে: বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নুর বলেন, “আমরা জিয়াউর রহমানকে দেখিনি। কিন্তু আজকের তারেক রহমানের মাটির মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কর্মকাণ্ডে আমরা জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।”
রাজপথে হুংকার না দিয়ে সংসদে সমাধানের আহ্বান
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে রাজপথে হুংকার না দিয়ে সংসদীয় চর্চার আহ্বান জানান নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, “সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবিধান সংস্কার কমিটিতেও সব দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাই রাজপথে অহেতুক হুংকার না দিয়ে যেকোনো সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে সংসদ ও কমিটিতেই খুঁজে বের করতে হবে।”
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মী, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





















