০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষামন্ত্রীকে কাছে পেয়ে মান্দার যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির জোর দাবি নওগাঁর এমপির

বেঙ্গল আই ডেস্ক | শিক্ষা ও জাতীয়

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে কাছে পেয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে এমপিওবঞ্চিত যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজশাহী থেকে সড়কপথে মান্দা হয়ে নওগাঁ জেলা শহরে যাওয়ার পথে উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

একনজরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও এমপির দাবির সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
প্রধান অতিথিশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
দাবি উত্থাপনকারীডা. ইকরামুল বারী টিপু (সংসদ সদস্য, নওগাঁ-৪)
অনুষ্ঠানের স্থানফেরিঘাট এলাকা, মান্দা উপজেলা, নওগাঁ
প্রধান দাবিমান্দার যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা
দাবির ভিত্তিমান্দা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিশাল ও জনবহুল উপজেলা
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসসরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ

এমপি টিপুর যৌক্তিক দাবি ও তুলনামূলক চিত্র

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু উপজেলার ভৌগোলিক বিশালত্ব ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মান্দা উপজেলাটি মোট ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জনবহুল একটি এলাকা। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী নওগাঁ-১ আসন মাত্র ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৮টি করে ইউনিয়ন রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে যদি তারা প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ পায়, তবে ১৪ ইউনিয়নের এই বিশাল মান্দা উপজেলার জন্য মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। সেই হিসেবে জনসংখ্যার অনুপাতে মান্দা উপজেলার অন্তত ৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া উচিত।”

শর্ত শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

এমপি টিপু আরও বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষানুরাগীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার প্রসারে অসংখ্য মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো আজও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে শিক্ষানীতি ও এমপিও নীতিমালার সংস্কার চলমান থাকায় তিনি শর্ত কিছুটা শিথিল করে হলেও যোগ্যতার ভিত্তিতে মান্দার বঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ও সংবর্ধনা

এমপি টিপুর এই দাবির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে শনিবার সকাল থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মান্দা উপজেলার প্রবেশদ্বার ফেরিঘাট এলাকায় হাজারো নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পরে মান্দাবাসীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৩১৮ Time View

শিক্ষামন্ত্রীকে কাছে পেয়ে মান্দার যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির জোর দাবি নওগাঁর এমপির

Update Time : ১১:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | শিক্ষা ও জাতীয়

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে কাছে পেয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার দীর্ঘদিন ধরে এমপিওবঞ্চিত যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজশাহী থেকে সড়কপথে মান্দা হয়ে নওগাঁ জেলা শহরে যাওয়ার পথে উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

একনজরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও এমপির দাবির সারসংক্ষেপ:

বিবরণতথ্য
প্রধান অতিথিশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
দাবি উত্থাপনকারীডা. ইকরামুল বারী টিপু (সংসদ সদস্য, নওগাঁ-৪)
অনুষ্ঠানের স্থানফেরিঘাট এলাকা, মান্দা উপজেলা, নওগাঁ
প্রধান দাবিমান্দার যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা
দাবির ভিত্তিমান্দা ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিশাল ও জনবহুল উপজেলা
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসসরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ

এমপি টিপুর যৌক্তিক দাবি ও তুলনামূলক চিত্র

শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু উপজেলার ভৌগোলিক বিশালত্ব ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মান্দা উপজেলাটি মোট ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জনবহুল একটি এলাকা। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী নওগাঁ-১ আসন মাত্র ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৮টি করে ইউনিয়ন রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে যদি তারা প্রতিটি উপজেলায় ৩টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ পায়, তবে ১৪ ইউনিয়নের এই বিশাল মান্দা উপজেলার জন্য মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। সেই হিসেবে জনসংখ্যার অনুপাতে মান্দা উপজেলার অন্তত ৯টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া উচিত।”

শর্ত শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

এমপি টিপু আরও বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষানুরাগীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার প্রসারে অসংখ্য মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো আজও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে শিক্ষানীতি ও এমপিও নীতিমালার সংস্কার চলমান থাকায় তিনি শর্ত কিছুটা শিথিল করে হলেও যোগ্যতার ভিত্তিতে মান্দার বঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ও সংবর্ধনা

এমপি টিপুর এই দাবির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে শনিবার সকাল থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মান্দা উপজেলার প্রবেশদ্বার ফেরিঘাট এলাকায় হাজারো নেতাকর্মী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পরে মান্দাবাসীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।