শিশু-তরুণ হত্যার দায় থেকে শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই: রুহুল কবির রিজভী
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
শিশু, কিশোর ও তরুণদের হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার কোনো ক্ষমা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশে যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার আবার দেশে ফিরে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
একনজরে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের মূল বিষয়:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান | ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সমাবেশ |
| প্রধান বক্তা | অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী |
| বক্তার বর্তমান পদবি | প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব |
| মূল বক্তব্য | শিশু-তরুণ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই, দেশে ফেরার সুযোগ নেই |
| ঐতিহাসিক তুলনা | জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বাংলার প্রতিরোধ |
| স্থান | যাত্রাবাড়ী, ঢাকা |
রক্তপাতের পর দেশে ফিরে রাজনীতির সুযোগ নেই
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশু-কিশোর ও তরুণদের নির্মমভাবে হত্যার দায় থেকে শেখ হাসিনা কোনোভাবেই রেহাই পেতে পারেন না। যে ব্যাপক রক্তপাত ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, এরপর তার দেশে ফিরে এসে পুনরায় রাজনীতি করার আর কোনো সুযোগ নেই।
জুলাই আন্দোলনের অভূতপূর্ব প্রতিরোধ
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, “জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা আমরা ইতিহাসে পড়েছি। ঠিক একইভাবে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও এ দেশের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদী শাসকের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।”
আত্মগোপনে থেকে আন্দোলনে সমর্থন
নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রিজভী জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে আত্মগোপনে থাকলেও তিনি নীরব ছিলেন না। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের অবস্থান ও বক্তব্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের প্রতিটি কর্মসূচিতে বিএনপির পূর্ণ সমর্থনের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।
আবু সাঈদের মৃত্যু ও দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ
১৬ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে তীব্র আকার ধারণ করে এবং তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যাতে বহু মানুষ নির্মমভাবে নিহত হন।





















