০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া’

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর এবং দেশে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিমূল গঠনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের বিষয়মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা
প্রধান অতিথিজহির উদ্দিন স্বপন (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী)
আয়োজকজননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি
স্থান ও সময়জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তন, জাতীয় প্রেসক্লাব; ২১ জুলাই
সভাপতিত্ববিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ
প্রধান আলোচকবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ

পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট ও যাদু মিয়ার দূরদর্শিতা

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, তখন প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই এক ধরনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কার্যকারিতা হারায়, তেমনি মুসলিম লীগের রাজনীতিও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে জামায়াতে ইসলামী যেমন নিষিদ্ধ ছিল, তেমনি জাসদের উত্থান কিংবা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতিও ছিল দিশেহারা। ঠিক সেই সময়ে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করার একক দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন কেবল যাদু মিয়া।

জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরণ ও বিএনপির নেপথ্য কারিগর

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মনোজগৎ থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়াই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।”

শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা-দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছিল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার পথ পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান। বক্তারা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
১২৩ Time View

‘শহীদ জিয়ার রাজনীতিক হয়ে ওঠার অন্যতম কারিগর ছিলেন যাদু মিয়া’

Update Time : ১২:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামরিক কর্মকর্তা থেকে জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর এবং দেশে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের ভিত্তিমূল গঠনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান অনস্বীকার্য ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের বিষয়মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা
প্রধান অতিথিজহির উদ্দিন স্বপন (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী)
আয়োজকজননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি
স্থান ও সময়জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তন, জাতীয় প্রেসক্লাব; ২১ জুলাই
সভাপতিত্ববিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ
প্রধান আলোচকবিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ

পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট ও যাদু মিয়ার দূরদর্শিতা

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, তখন প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই এক ধরনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি যেমন কার্যকারিতা হারায়, তেমনি মুসলিম লীগের রাজনীতিও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে জামায়াতে ইসলামী যেমন নিষিদ্ধ ছিল, তেমনি জাসদের উত্থান কিংবা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতিও ছিল দিশেহারা। ঠিক সেই সময়ে সমসাময়িক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি করার একক দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন কেবল যাদু মিয়া।

জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরণ ও বিএনপির নেপথ্য কারিগর

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। সামরিক বাহিনীর মনোজগৎ থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়াই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।”

শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা-দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছিল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার পথ পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান। বক্তারা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।