০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতোমধ্যে স্পিকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে।

একনজরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য:

বিবরণতথ্য
পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতিমো. সাহাবুদ্দিন (২২তম রাষ্ট্রপতি)
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেনস্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে
পদত্যাগের প্রধান কারণগুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা
প্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধানসংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিজাতীয় সংসদের স্পিকার
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনপরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

নিজের পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসামর্থ্যতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে নিজের ভূমিকার কথা বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন:

“আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।”

গুরুতর অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও লেখেন:

“আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদাধিকারবলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। একই সঙ্গে সংবিধানের নিয়ম মেনে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে দেশের জন্য একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৬৩ Time View

গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

Update Time : ০৭:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতোমধ্যে স্পিকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে।

একনজরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য:

বিবরণতথ্য
পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতিমো. সাহাবুদ্দিন (২২তম রাষ্ট্রপতি)
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেনস্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে
পদত্যাগের প্রধান কারণগুরুতর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা
প্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধানসংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিজাতীয় সংসদের স্পিকার
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনপরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে

পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মো. সাহাবুদ্দিন

নিজের পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসামর্থ্যতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে নিজের ভূমিকার কথা বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন:

“আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।”

গুরুতর অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও লেখেন:

“আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদাধিকারবলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। একই সঙ্গে সংবিধানের নিয়ম মেনে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে দেশের জন্য একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।