কবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন? উঠছেন গুলশানের ‘গ্রিন ভিলা’য়
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে পদে ইস্তফা দেওয়ার পর এক-দুই দিনের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় উঠবেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
একনজরে সাবেক রাষ্ট্রপতির স্থানান্তরের পরিকল্পনা:
| বিবরণ | তথ্য |
| সাবেক রাষ্ট্রপতি | মো. সাহাবুদ্দিন (২২তম রাষ্ট্রপতি) |
| বঙ্গভবন ছাড়ার সম্ভাব্য সময় | রোববার বা সোমবারের (২৬-২৭ জুলাই) মধ্যে |
| নতুন বাসস্থান | ‘গ্রিন ভিলা’, ১২৩ নম্বর রোড, গুলশান-১, ঢাকা |
| পদত্যাগের তারিখ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ |
| বর্তমান সাংবিধানিক প্রধান | ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ |
বঙ্গভবন ত্যাগ ও গুলশানের বাসায় প্রস্তুতি
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী সোমবারের মধ্যে যেকোনো সময় বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন, এমনকি রোববারও তিনি চলে যেতে পারেন। গুলশানের বাসভবনে ওঠার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত উইং দেখভাল করছে।
উল্লেখ্য, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছিল। শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরই গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর রোডে অবস্থিত তাঁর বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় নতুন টেলিফোন সংযোগ স্থাপনসহ যাবতীয় প্রস্তুত মূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।
অসুস্থতা ও পদত্যাগের কারণ
এর আগে শুক্রবার (২৪ ২৪ জুলাই) বিকেলে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন।
শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পর্বের বিরল ইতিহাস
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর এই মেয়াদকালটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত ঘটনাবহুল এক অধ্যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ পরিচালনা করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকেও তিনি শপথবাক্য পাঠ করান। ফলে একই মেয়াদে তিনটি ভিন্ন ধারার সরকারের শপথ পরিচালনা করার বিরল নজির গড়েছেন তিনি।
সংবিধানের নিয়ম মেনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এই সময় পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।





















