০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

সময়ের চাহিদানুযায়ী একটি আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের দর্শন, ‘দেশের স্বার্থ রক্ষায় সবার আগে বাংলাদেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

একনজরে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের নামসেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬
প্রধান অতিথিতারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
স্থানসেনাসদর দপ্তর, ঢাকা সেনানিবাস
তারিখরোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
উন্নয়নের মূল প্রতিপাদ্যসুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাহিনী গঠন এবং যুগোপযোগী কৌশল প্রণয়ন
পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠিমেধা, পেশাদারিত্ব ও শারীরিক যোগ্যতা (ফিটনেস)

বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও আধুনিকায়ন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি, সাইবার ও তথ্যযুদ্ধসহ বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা।”

তাই সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাইবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চায় বলে জানান তিনি।

শহীদ জিয়ার আলোকে সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো

সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান জানান, কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্যের মাঝেই নিহিত রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি। এ লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন:

“এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।”

মেধা ও ফিটনেসই পদোন্নতির মাপকাঠি

পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শারীরিক যোগ্যতার প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘The more you sweat in peace, the less you bleed in war.’ অর্থাৎ সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপোশের সুযোগ নেই।

জাতীয় সংকট ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ নির্মাণ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ ছয়জন শান্তিরক্ষীসহ দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া বীর সেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সেনানিবাসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আবেগ ও স্মৃতি

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই। আমি সেনাবাহিনীকে বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
৩৭ Time View

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৬:৩৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

সময়ের চাহিদানুযায়ী একটি আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের দর্শন, ‘দেশের স্বার্থ রক্ষায় সবার আগে বাংলাদেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

একনজরে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের নামসেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬
প্রধান অতিথিতারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
স্থানসেনাসদর দপ্তর, ঢাকা সেনানিবাস
তারিখরোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
উন্নয়নের মূল প্রতিপাদ্যসুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাহিনী গঠন এবং যুগোপযোগী কৌশল প্রণয়ন
পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠিমেধা, পেশাদারিত্ব ও শারীরিক যোগ্যতা (ফিটনেস)

বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও আধুনিকায়ন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি, সাইবার ও তথ্যযুদ্ধসহ বহুমুখী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা।”

তাই সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাইবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চায় বলে জানান তিনি।

শহীদ জিয়ার আলোকে সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো

সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান জানান, কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্যের মাঝেই নিহিত রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি। এ লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন:

“এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।”

মেধা ও ফিটনেসই পদোন্নতির মাপকাঠি

পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শারীরিক যোগ্যতার প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘The more you sweat in peace, the less you bleed in war.’ অর্থাৎ সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপোশের সুযোগ নেই।

জাতীয় সংকট ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ নির্মাণ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় শহীদ ছয়জন শান্তিরক্ষীসহ দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া বীর সেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সেনানিবাসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আবেগ ও স্মৃতি

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই। আমি সেনাবাহিনীকে বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।”