এমপি নজরুলের একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ভিডিও: চারদিকে তীব্র সমালোচনা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
নারীকাণ্ডে বিতর্কিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর একের পর এক নতুন ভিডিও। সবশেষ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁকে আরেক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডর, লবি, লিফট ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। সত্তরোর্ধ্ব এই এমপির নৈতিক স্খলনের খবর এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। সর্বত্রই চাপের মুখে থাকায় আপাতত তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
একনজরে এমপি নজরুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ:
| বিবরণ | তথ্য |
| অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি | গাজী নজরুল ইসলাম (এমপি, সাতক্ষীরা-৪) |
| দলীয় অবস্থান | জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত |
| মূল অভিযোগ | নৈতিক স্খলন, নারী কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার |
| পল্লবী থানায় মামলার বাদী | ওবায়দুর রহমান (এমপির ব্যক্তিগত গাড়িচালক) |
| মামলার প্রধান আসামিরা | এমপি নজরুল, আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | আমিনুর রহমান |
নতুন ভিডিওতে যা দেখা গেছে
দল থেকে বহিষ্কারের পর সামাজিক মাধ্যমে এমপি নজরুলের আরও একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসিপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে হোটেলের লবি, করিডর, লিফট ও সিঁড়িঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
এসব ঘটনার জেরে গাজী নজরুল ইসলাম এমপি এবং আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল নির্বাচনী এলাকা
নৈতিক স্খলনের এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্যামনগর প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে এমপি পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সম্পর্কের আড়ালে দুর্নীতি ও প্রলোভনের ফাঁদ
এমপি নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুরের ভাষ্য থেকে গণমাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওবায়দুরের দাবি, মরিয়ম বেগম নামের ওই নারীর সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়েছিলেন এমপি।
পারিবারিক সম্পর্কে গাজী নজরুল হলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু। সেই সুবাদে মরিয়ম এমপির নাতনি। টাকার লোভে মরিয়মের মা-বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি করেননি।
দুর্নীতির চিত্র:
- সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই মাসুম বিল্লাহর নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল।
- প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন এমপি নিজেই।
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাবও জমা দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া মরিয়মকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
গাড়িচালক ওবায়দুর বলেন, “মেয়াকে বলা হতো সংসদে চাকরি দেওয়া হবে। আর বাবাকে বলা হতো, বড় বড় কাজ দেওয়া হবে। কোটিপতি বানানোর এই লোভ দেখিয়েই পুরো বিষয়টি চলছিল।”





















