জুলাইয়ের সম্মিলিত চেতনা রাজনৈতিক ইতিহাসের মূল্যবান সম্পদ: রুহুল কবির রিজভী
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
একনজরে স্মরণানুষ্ঠান ও রিজভীর বক্তব্যের মূল বিষয়:
| বিবরণ | তথ্য |
| অনুষ্ঠান | জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠান |
| প্রধান বক্তা | অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী |
| আয়োজক | নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ |
| সময়কাল | সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬), সন্ধ্যা |
| মূল বার্তা | রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন, জাতীয় ঐক্যমত ও জুলাইয়ের চেতনা ধারণ |
‘আইনের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন বেশি জরুরি’
সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়নের চেয়ে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, “মূল উপলব্ধিটি হলো, আপনি সংবিধান সংশোধন করলেন, পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেন, কিন্তু দেখা গেল কোনো একসময় ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটলো। তখন এই আইনগুলো কিন্তু আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে না।”
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছিলেন। তাই কাগজে লেখা একটি আইন সবাই মান্য করবে, এমন কোনো কথা নেই। মূল বিষয়টি হলো মানুষের মানসিকতা। এটি শুধু লিগ্যাল বা আইনি বিষয় নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।”
রাজনীতিবিদদের একটি সাধারণ ঐক্যের (কমন পয়েন্ট) জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতাদর্শগত ঝগড়া-ঝাঁটি বা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সেই দিকটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।
ইতিহাস ও জাতীয় স্মৃতির গুরুত্ব
রিজভীর মতে, শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না; তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর।
জাতীয় স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন:
“জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি, নৈতিক চেতনার উৎস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা। যে জাতি তার ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠভাবে ধারণ করতে পারে, সে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যৎকে আরও দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করে।”
ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাময়িক ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহৃত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ঐক্যমত বা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে না।
সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর জোর দেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। তরুণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। একটি আদর্শিক বোধ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মনে থাকলে রাজনৈতিক সাফল্য আসবেই।”





















