নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সারজিস আলমসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় নাম উল্লেখ করে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একনজরে মামলার তথ্য
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মামলার স্থান | হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা |
| মামলার বাদী | জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন |
| মামলার অভিযোগ | হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাই |
| নামীয় আসামি | ১০ জন |
| অজ্ঞাত আসামি | ৪০–৫০ জন |
| ঘটনার তারিখ | ২৮ জুলাই ২০২৬ |
| মামলা নথিভুক্ত | ৩০ জুলাই ২০২৬ রাত |
যে ঘটনার পর মামলা
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২৮ জুলাই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
বাদীর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা
মামলায় নাম উল্লেখ করে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন—
- নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
- সারজিস আলম
- নুর আলম চৌধুরী
- ফখরুল জাকির
- আ. হাই কামাল
- রুহাম গাজী
- মাহবুবুল বারী চৌধুরী (মুবিন)
- নাহিদ উদ্দিন তারেক
- আবু হেনা মোস্তফা কামাল
- ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী
এজাহারে যেসব অভিযোগ
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।
এছাড়া সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—
- আইফোন ১৩
- আইফোন ১১
- আইফোন ১৪
- আইফোন ১৫
- স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২২
- নগদ ৫০ হাজার টাকা
এনসিপির পাল্টা অভিযোগ
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী—
- একজন কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।
- কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন।
- পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং নিরাপত্তার সঙ্গে মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।
পুলিশের বক্তব্য
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানিয়েছেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।





















