১৫৯ কিশোর গ্যাংয়ে কাঁপছে ঢাকা: ডিএমপির তালিকায় ৩ হাজারের বেশি সদস্য, সবচেয়ে ঝুঁকিতে মোহাম্মদপুর
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আইন-শৃঙ্খলা
রাজধানী ঢাকাজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। অলিগলিতে আধিপত্য বিস্তার, অস্ত্রের মহড়া, মাদক কারবার, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর ৮টি বিভাগে ১৫৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি।
একনজরে কিশোর গ্যাংয়ের পরিসংখ্যান
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| মোট সক্রিয় কিশোর গ্যাং | ১৫৯টি |
| মোট সদস্য | ৩,০০০-এর বেশি |
| গত বছরের গ্যাং সংখ্যা | ১১৮টি |
| এক বছরে বৃদ্ধি | প্রায় ৩৫% |
| সবচেয়ে বেশি গ্যাং | তেজগাঁও বিভাগ (৪০টি) |
| দ্বিতীয় সর্বোচ্চ | মিরপুর বিভাগ (৩৫টি) |
| সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ থানা | মোহাম্মদপুর (২৭টি গ্যাং) |
বিভাগভিত্তিক সক্রিয় কিশোর গ্যাং
ডিএমপির তথ্যমতে, বিভাগভিত্তিক সক্রিয় গ্যাংয়ের সংখ্যা—
- তেজগাঁও বিভাগ – ৪০টি
- মিরপুর বিভাগ – ৩৫টি
- ওয়ারী বিভাগ – ২০টি
- মতিঝিল বিভাগ – ১৬টি
- উত্তরা বিভাগ – ১৫টি
- রমনা বিভাগ – ১২টি
- গুলশান বিভাগ – ১১টি
- লালবাগ বিভাগ – ১০টি
মোহাম্মদপুর: কিশোর গ্যাংয়ের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪৮১ জন।
উল্লেখযোগ্য গ্যাংগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- পাটালী গ্রুপ
- লেভেল হাই গ্রুপ
- আনোয়ার গ্রুপ
- ফরহাদ গ্রুপ
- এলেক্স গ্রুপ
- গাংচিল গ্রুপ
- স্টার বন্ড
- ভাইব্বা কিং
- টক্কর গ্রুপ
- মিরাজ গ্রুপ
- মাহি গ্রুপ
- চার্লি গ্রুপ
- বেলচা মনির গ্রুপসহ আরও অনেক দল।
অভিযোগ রয়েছে, জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে এসব গ্যাংকে বিভিন্ন অপরাধচক্র ব্যবহার করছে।
পল্লবীতেও ভয়ংকর ১৬ কিশোর গ্যাং
ডিএমপির তালিকা অনুযায়ী, পল্লবী এলাকায় ১৬টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- আশিক গ্রুপ
- রাজু গ্রুপ
- রকি গ্রুপ
- রোমান্টিক গ্রুপ
- মুরাদ গ্রুপ
- আরমান গ্রুপ
- বাহাদুর গ্রুপ
- ৬.৯ ইয়াসিন গ্রুপ
- সোহেল গ্রুপ
- দীপ গ্রুপসহ অন্যান্য দল।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু গ্যাংয়ের প্রকৃত সদস্য সংখ্যা সরকারি তালিকার চেয়েও অনেক বেশি।
উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতেও বাড়ছে গ্যাং কালচার
উত্তরা বিভাগে বর্তমানে ১৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৮টি গ্যাং নিয়মিত সক্রিয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেখানে পলাশ, ফাহিম, লিটন, ওয়ালিদ, আহনাফ, জীবন, শুভ-জাহিদ ও সাকিব গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
কেন বাড়ছে কিশোর গ্যাং?
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণ কিশোরদের অপরাধচক্রে টেনে নিচ্ছে—
- পারিবারিক নজরদারির অভাব
- মাদকাসক্তি
- আর্থিক সংকট
- বেকারত্ব
- প্রযুক্তির অপব্যবহার
- সামাজিক মাধ্যমে ‘হিরো’ হওয়ার প্রবণতা
- অপরাধচক্র ও প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতা
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু সদস্যদের নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, কোন এলাকায় কী কারণে কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে প্রিভেনশন পুলিশিং জোরদার করা জরুরি।
ডিএমপির বক্তব্য
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গণি জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত সদস্যদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সন্তানদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।





















