সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | শিক্ষা
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও আশ্বাসের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
রোববার রাজধানীর শাহবাগে কয়েক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
একনজরে
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| আন্দোলনকারী | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা |
| মোট সুপারিশপ্রাপ্ত | ১৪,৩৮৪ জন |
| আন্দোলনের স্থান | শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘরের সামনে |
| নতুন যোগদানের তারিখ | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
| পদায়নের তারিখ | ২ অক্টোবর ২০২৬ |
| সিদ্ধান্ত | সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার |
কেন আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা?
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
তাদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও তারা যোগদান করতে পারেননি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত
আন্দোলনের মধ্যেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—
- ১ অক্টোবর ২০২৬ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
- ২ অক্টোবর ২০২৬ তাদের পদায়ন করা হবে।
- নির্ধারিত সময়ের আগেই নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
- পরে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই তারিখ প্রায় এক মাস এগিয়ে আনা হয়েছে।
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা
নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানান।
তারা বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে, এবং সেই অনুযায়ী শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
পেছনের প্রেক্ষাপট
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে—
- ৯ জানুয়ারি ২০২৬ পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে ৬৯,২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
- ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।
- মোট ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত করা হলেও এতদিন তারা যোগদান করতে পারেননি।





















