০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলুন, বিসিবিকে সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল

বেঙ্গল আই ডেস্ক | স্পোর্টস ও রাজনীতি

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থনের কারণে সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা উচিত।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

সাকিবের রেকর্ড মুছে ফেলার দাবি

শফিকুল আলম তার পোস্টে সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থনের কারণে ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিবের নাম থাকা উচিত নয়।

তিনি দাবি করেন, ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম ও রেকর্ড মুছে ফেলা হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট নিঃস্ব হবে না।

বিশ্ব ক্রিকেটের উদাহরণ টানলেন শফিকুল

নিজের বক্তব্যের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনামলের উদাহরণ তুলে ধরেন সাবেক প্রেস সচিব।

তিনি সাবেক ক্রিকেটার ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম পোলক, পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর ও এডি বার্লোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা সাকিবের চেয়ে বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন। বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন শফিকুল আলম।

তার অভিযোগ, ভবিষ্যতে বিসিবির সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে সাকিব আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন এবং দেশে ফিরে ওই শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছেন।

শফিকুল আলম আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।

ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বিতর্ক

ক্রীড়াঙ্গনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী কিংবা ফ্যাসিবাদের সমর্থকদের স্থান থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক প্রেস সচিব।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন অ্যাথলেট মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তাদের জন্য কেউ সহানুভূতি দেখায়নি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণহত্যাকারীদের তোষণ করে সাকিবও পার পেতে পারেন কি না।

শফিকুল আলমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
৫৪ Time View

সাকিবের সব রেকর্ড মুছে ফেলুন, বিসিবিকে সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল

Update Time : ০৮:০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | স্পোর্টস ও রাজনীতি

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থনের কারণে সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা উচিত।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

সাকিবের রেকর্ড মুছে ফেলার দাবি

শফিকুল আলম তার পোস্টে সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থনের কারণে ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিবের নাম থাকা উচিত নয়।

তিনি দাবি করেন, ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম ও রেকর্ড মুছে ফেলা হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট নিঃস্ব হবে না।

বিশ্ব ক্রিকেটের উদাহরণ টানলেন শফিকুল

নিজের বক্তব্যের পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনামলের উদাহরণ তুলে ধরেন সাবেক প্রেস সচিব।

তিনি সাবেক ক্রিকেটার ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম পোলক, পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর ও এডি বার্লোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা সাকিবের চেয়ে বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন। বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাকিবের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন শফিকুল আলম।

তার অভিযোগ, ভবিষ্যতে বিসিবির সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে সাকিব আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন এবং দেশে ফিরে ওই শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছেন।

শফিকুল আলম আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।

ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক বিতর্ক

ক্রীড়াঙ্গনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী কিংবা ফ্যাসিবাদের সমর্থকদের স্থান থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক প্রেস সচিব।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন অ্যাথলেট মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তাদের জন্য কেউ সহানুভূতি দেখায়নি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণহত্যাকারীদের তোষণ করে সাকিবও পার পেতে পারেন কি না।

শফিকুল আলমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।