‘সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী’
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
সরকার গঠনের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
একনজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সরকারের মেয়াদ | ১৮০ দিন / ছয় মাস |
| সম্ভাব্য বক্তব্য | জাতির উদ্দেশে ভাষণ |
| বক্তব্য দিতে পারেন | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |
| বক্তব্যের বিষয় | অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা |
| বক্তব্যের সম্ভাব্য সময় | ১৮০ দিন পূর্তির পর |
মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে যা বললেন উপদেষ্টা
১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হবে—সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, যেকোনো সময় মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কাজ মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কী ধরনের কাজ করেছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। তিনি নিজেও ওই কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
রেলপথ সম্প্রসারণে অগ্রগতির দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রেলপথ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রিকস সম্মেলন ও ভারত সফর
ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও পৃথক একটি আমন্ত্রণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সফর যেকোনো সময় হতে পারে।
সাকিব ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গেও বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান ও শেখ হাসিনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
সাকিব আল হাসানের বক্তব্যকে সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার চেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিনি পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সবাই তা মেনে নেবেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’ সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা—যেই হোন না কেন, তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তারা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।





















