৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে দেশ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
একনজরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রথম সংসদীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন | ১৯৯১ |
| বর্তমান নির্বাচন | ২০২৬ |
| ব্যবধান | ৩৫ বছর |
| ভোট দেবেন | জাতীয় সংসদ সদস্যরা |
| সাধারণ ভোটার | ভোট দিতে পারবেন না |
| ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী | কর্নেল (অব.) আলি আহমদ |
| বিএনপির আসন | ২৪৭ |
| জামায়াতে ইসলামীর আসন | ৭৭ |
| এনসিপির আসন | ৮ |
| সংসদের মোট আসন | ৩৫০ |
১৯৯১ সালের নির্বাচনে যা ঘটেছিল
১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ছিল ১৪০টি আসন, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসন।
ওই নির্বাচনে মোট ৬০ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবির সদস্যরাও ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের পক্ষে স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ভোট দেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ভোট দেন।
এবার ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) আলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। এরই মধ্যে তার পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপিও তাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে দলটি এখনো তাদের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত হবে না। দেশের সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ এটি হবে জনগণের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
সংসদে কোন দলের কত আসন?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপির রয়েছে ২৪৭টি আসন। জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি, এনসিপির ৮টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩টি আসন রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন এবং স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোন প্রার্থী কত ভোট পাবেন, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির প্রার্থীই কি নিশ্চিত বিজয়ী?
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এগিয়ে থাকার অবস্থানে রয়েছেন। ফলে বিএনপির প্রার্থীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে।





















