প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পাহাড়ে আবারও ফিরছে শিক্ষার আলো
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও শিক্ষা
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভারী বৃষ্টিতে ধসে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশুর আবারও স্কুলে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত ‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ গত জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় উদ্যোগে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আনার পর দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন বিদ্যালয় ও হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
একনজরে বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিদ্যালয়ের নাম | সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় |
| অবস্থান | নয়াপাড়া ইউনিয়ন, আলীকদম, বান্দরবান |
| প্রতিষ্ঠা | ২০২২ সাল |
| শিক্ষার্থী | প্রায় ৫০–৬০ জন |
| শিক্ষক | ২ জন |
| নির্মাণ ব্যয় | আনুমানিক ১০ লাখ টাকা |
| কাজ শুরু | ২৩ জুলাই |
| সম্পন্ন কাজ | প্রায় ২০ শতাংশ |
| নির্মাণের ধরন | পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে বিদ্যালয় ও হোস্টেল |
ভারী বৃষ্টিতে ধসে পড়ে বিদ্যালয়
নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পাঠদানের পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল।
গত জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দ্রুত উদ্যোগ
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজনের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে।
তিনি বিষয়টি মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে অবহিত করেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০ শতাংশ কাজ শেষ
বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ২৩ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।
‘স্কুলটি ছিল একমাত্র আশার জায়গা’
নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুলটি বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন স্কুলটি আর হবে না বলে আশঙ্কা করেছিলেন তারা। তবে দ্রুত নতুন স্কুলঘর নির্মাণ শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পাড়া কারবারি (পাহাড়ি গ্রাম প্রধান) দমলয় মুরুং বলেন, চারটি গ্রামের মানুষের জন্য ওই স্কুলটি ছিল একমাত্র শিক্ষার আশ্রয়স্থল। বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ার পর তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। এখন আবার স্কুলটি গড়ে ওঠায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দ্রুত পাঠদানে ফেরানোর লক্ষ্য
আলীকদম উপজেলা সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফা বলেন, লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ শুধু একটি ভবন তৈরি নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতে বিদ্যালয় ভেঙে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত এবং এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।





















