এক নজরে মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
একনজরে মির্জা ফখরুল
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |
| জন্ম | ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৮ |
| জন্মস্থান | ঠাকুরগাঁও |
| শিক্ষা | অর্থনীতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| রাজনীতির শুরু | পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন |
| সরকারি চাকরি | ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক |
| সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ | ১৯৮৬ |
| ঠাকুরগাঁও পৌরসভা চেয়ারম্যান | ১৯৮৮ |
| জেলা বিএনপি সভাপতি | ১৯৯২ |
| সংসদ সদস্য | ২০০১ |
| বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব | ২০১১–২০১৬ |
| বিএনপি মহাসচিব | ৩০ মার্চ ২০১৬ থেকে |
| বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী | বিএনপি মনোনীত |
ঠাকুরগাঁও থেকে জাতীয় রাজনীতিতে
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা তার পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে।
শিক্ষকতা থেকে সক্রিয় রাজনীতি
শিক্ষাজীবন শেষে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
তবে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।
২০০১ সালে সংসদ সদস্য, মন্ত্রীও হন
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তিনি কৃষি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পান।
সরকারে থাকাকালে নীতি নির্ধারণে মনোযোগী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
ওয়ান ইলেভেনের পর কঠিন সময়
ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে কঠিন সময় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।
এরপর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সময় বিএনপির রাজপথের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল।
২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব
প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
গ্রেপ্তার, মামলা ও আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটেও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছেন মির্জা ফখরুল।
রাজনীতির বাইরেও সাহিত্য ও অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ
রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি ও সাহিত্যের প্রতি মির্জা ফখরুলের আগ্রহ রয়েছে। তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি সংবেদনশীল ও মানবিক আচরণের জন্যও তিনি পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেকের কাছ থেকেও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথে
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের একজন শিক্ষক থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাওয়ার পথ—মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এটি নতুন এক অধ্যায়।





















