প্রেম, সাম্য ও দ্রোহের প্রতীক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | শিল্প ও সাহিত্য
প্রেম, সাম্য ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। শৈশবের কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে উঠে আসা ‘দুখু মিয়া’ তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে যে জাগরণ তৈরি করেছিলেন, তা আজও অম্লান।
একনজরে জাতীয় কবির জীবন ও সম্মাননা:
| বিবরণ | তথ্য |
| জন্ম | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ (চুরুলিয়া, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ) |
| মৃত্যু | ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল, ঢাকা) |
| সৃষ্টিশীল সময় | মাত্র ২৩ বছর |
| বিশেষ সম্মাননা | বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক (১৯৭৬), ডি-লিট (১৯৭৪) |
| সমাধিস্থল | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের উত্তর পাশে |
| বিশেষ ঘোষণা | ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ |
সৃষ্টিশীল জীবন ও দ্রোহের চেতনা
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ নানা ক্ষেত্রে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, প্রেম, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা উঠে এসেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর কবিতা ও গান মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের তীব্র চেতনা জাগিয়েছিল।
তিনি একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার ছিলেন। তাঁর বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিনী বাংলা সংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। মূলত তিনি বিদ্রোহী হলেও, তাঁর প্রেমিক রূপটিও ছিল প্রবাদপ্রতিম।
বাংলাদেশে আগমন ও সম্মাননা
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সপরিবারে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ডি-লিট’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত হন।
নজরুল বর্ষ ঘোষণা ও চিরনিদ্রা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বিএসএমএমইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি। তাঁর নিজের লেখা গান, “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই/ যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই”— এই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।





















