০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইনবোর্ডে ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’, ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার নকল কনডমের কারখানা!

বেঙ্গল আই ডেস্ক | সারাদেশ (সাভার)

বাইরে ঝুলছে ভুয়া পত্রিকা ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’ ও সামাজিক সংগঠনের সাইনবোর্ড। আর ভেতরে চলত অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) প্যাকেটজাতকরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ! সাভারের আশুলিয়ায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর কারখানার সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। কারখানাটি থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

একনজরে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য:

বিবরণতথ্য
কারখানার আড়ালভুয়া পত্রিকা (‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’) ও সামাজিক সংগঠন
অবৈধ কার্যক্রমনকল কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ প্যাকেটজাতকরণ
ঘটনাস্থলবাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার
জব্দকৃত মালামালের মূল্যপ্রায় ২ কোটি টাকা
অভিযানে নেতৃত্ব দেনউপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম
মূল অভিযুক্ত/মালিকশাহাদত হোসেন শান্তু (পলাতক)

আগের জরিমানা ও শর্ত ভঙ্গের ইতিহাস

জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছিল প্রশাসন এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ সেই শর্ত ভঙ্গ করে। আড়ালে তারা গোপনে একই যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম উৎপাদনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে অনুমোদনহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অবৈধভাবে প্যাকেটজাত ও মজুত করা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, “এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আনায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ছাড়া গুণগত মান যাচাইয়ের কোনো সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

অভিযান শেষে কারখানা থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় দুই কোটি টাকা সমমূল্যের বিপুল মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক শাহাদত হোসেন শান্তুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
৫২ Time View

সাইনবোর্ডে ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’, ভেতরে মিলল ২ কোটি টাকার নকল কনডমের কারখানা!

Update Time : ১১:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | সারাদেশ (সাভার)

বাইরে ঝুলছে ভুয়া পত্রিকা ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’ ও সামাজিক সংগঠনের সাইনবোর্ড। আর ভেতরে চলত অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম) প্যাকেটজাতকরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ! সাভারের আশুলিয়ায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর কারখানার সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। কারখানাটি থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

একনজরে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য:

বিবরণতথ্য
কারখানার আড়ালভুয়া পত্রিকা (‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’) ও সামাজিক সংগঠন
অবৈধ কার্যক্রমনকল কনডম ও যৌন উত্তেজক ওষুধ প্যাকেটজাতকরণ
ঘটনাস্থলবাইপাইল, আশুলিয়া, সাভার
জব্দকৃত মালামালের মূল্যপ্রায় ২ কোটি টাকা
অভিযানে নেতৃত্ব দেনউপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম
মূল অভিযুক্ত/মালিকশাহাদত হোসেন শান্তু (পলাতক)

আগের জরিমানা ও শর্ত ভঙ্গের ইতিহাস

জানা যায়, একই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছিল প্রশাসন এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ সেই শর্ত ভঙ্গ করে। আড়ালে তারা গোপনে একই যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম উৎপাদনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে অনুমোদনহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অবৈধভাবে প্যাকেটজাত ও মজুত করা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, “এসব পণ্যের অধিকাংশ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আনায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ছাড়া গুণগত মান যাচাইয়ের কোনো সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

অভিযান শেষে কারখানা থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় দুই কোটি টাকা সমমূল্যের বিপুল মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক শাহাদত হোসেন শান্তুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।