০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন বিচার পায়, সে লক্ষ্যেই নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

গুমের শিকার প্রতিটি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবার যেন সুষ্ঠু বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতেই সরকার নতুন আইন আনছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

একনজরে নতুন আইন ও অনুষ্ঠানের মূল দিক:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের আয়োজকমায়ের ডাক
স্থান ও সময়জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ (শনিবার সন্ধ্যা)
প্রধান অতিথিস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রস্তাবিত আইনগুম প্রতিকার আইন-২০২৬
আইনের মূল সুবিধাভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ, ক্ষতিপূরণ ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ

‘গুম প্রতিকার আইন-২০২৬’-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গুম কমিশনে সবকিছু ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার, তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইনি কাঠামো আমরা সংসদে প্লেস করেছি।”

নতুন এই আইনে যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে:

  • কোন ধরনের গুমে কী সাজা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
  • তদন্ত কারা এবং কীভাবে করবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তাঁর ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীরা যেন তাঁর সম্পদ পান, সেই বিধান রাখা হয়েছে।
  • অপরাধীরা শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলেও, রাষ্ট্র যেন ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইনটিতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তা সংশোধন করা যাবে, তবে এই মুহূর্তে এমন একটি আইন দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগ

নিজেও গুমের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, গুম নিয়ে একটি শক্তিশালী আইন হোক? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তাঁরা বিচার পাবেন।”

ভুক্তভোগীদের নিয়ে অপসংস্কৃতির সমালোচনা

গত দুই বছর গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে যেসব কটূক্তি বা অবজ্ঞা করা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাঁদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাঁদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকব? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৭:০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
৪৫ Time View

গুমের প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন বিচার পায়, সে লক্ষ্যেই নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৭:০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

গুমের শিকার প্রতিটি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবার যেন সুষ্ঠু বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতেই সরকার নতুন আইন আনছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

একনজরে নতুন আইন ও অনুষ্ঠানের মূল দিক:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের আয়োজকমায়ের ডাক
স্থান ও সময়জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ (শনিবার সন্ধ্যা)
প্রধান অতিথিস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রস্তাবিত আইনগুম প্রতিকার আইন-২০২৬
আইনের মূল সুবিধাভুক্তভোগীদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ, ক্ষতিপূরণ ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ

‘গুম প্রতিকার আইন-২০২৬’-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গুম কমিশনে সবকিছু ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার, তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইনি কাঠামো আমরা সংসদে প্লেস করেছি।”

নতুন এই আইনে যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে:

  • কোন ধরনের গুমে কী সাজা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
  • তদন্ত কারা এবং কীভাবে করবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তাঁর ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীরা যেন তাঁর সম্পদ পান, সেই বিধান রাখা হয়েছে।
  • অপরাধীরা শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলেও, রাষ্ট্র যেন ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইনটিতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তা সংশোধন করা যাবে, তবে এই মুহূর্তে এমন একটি আইন দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগ

নিজেও গুমের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, গুম নিয়ে একটি শক্তিশালী আইন হোক? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তাঁরা বিচার পাবেন।”

ভুক্তভোগীদের নিয়ে অপসংস্কৃতির সমালোচনা

গত দুই বছর গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে যেসব কটূক্তি বা অবজ্ঞা করা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাঁদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাঁদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকব? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে।”