০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু, জড়িতদের বিচার হবে: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট) উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বাণীতে তিনি গুমকে বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো— ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ (Victims First, Actions Now)।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল বিষয়বস্তু:

বিবরণতথ্য
উপলক্ষআন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট)
বার্তা প্রদানকারীপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দিবসটির প্রতিপাদ্য‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’
গুমের পরিসংখ্যানকমপক্ষে ৭ শতাধিক (মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী)
সরকারের পদক্ষেপ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন

ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘আয়নাঘর’ ও গুমের পরিসংখ্যান

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পতিত ও ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বন্দি রাখার জন্য তারা গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, বিগত সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

বিচার নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের আইনি পদক্ষেপ

ভবিষ্যতে গুম বা অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বর্তমান সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

  • প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
  • জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।
  • মানবাধিকার সুরক্ষায় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে।

সরকার আশা করে, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

স্বজনদের অপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বান

গুমের শিকার পরিবারগুলোর যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুম শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু।” ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি। আইসিসির রোম সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৭:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
২৮ Time View

গুম একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু, জড়িতদের বিচার হবে: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট) উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বাণীতে তিনি গুমকে বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো— ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ (Victims First, Actions Now)।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল বিষয়বস্তু:

বিবরণতথ্য
উপলক্ষআন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস (৩০ আগস্ট)
বার্তা প্রদানকারীপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দিবসটির প্রতিপাদ্য‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’
গুমের পরিসংখ্যানকমপক্ষে ৭ শতাধিক (মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী)
সরকারের পদক্ষেপ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন

ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘আয়নাঘর’ ও গুমের পরিসংখ্যান

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পতিত ও ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বন্দি রাখার জন্য তারা গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, বিগত সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

বিচার নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের আইনি পদক্ষেপ

ভবিষ্যতে গুম বা অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বর্তমান সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

  • প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
  • জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।
  • মানবাধিকার সুরক্ষায় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে।

সরকার আশা করে, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

স্বজনদের অপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বান

গুমের শিকার পরিবারগুলোর যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুম শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু।” ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি। আইসিসির রোম সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।