০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাবা গুম শুনতে শুনতে ছেলে পরীক্ষা দিতে গেছে’: গুম প্রতিরোধ দিবসে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

“আমার স্বামী যখন গুম হয়, আমার বড় ছেলের তখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছিল। ট্রাফিক সিগনালে হকারের মুখে ‘ইলিয়াস আলী গুম’ শুনতে শুনতে আমার ছেলে পরীক্ষার হলে গিয়েছে।” আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এভাবেই সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সভার আয়োজন করা হয়।

একনজরে আলোচনা সভার বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের নাম‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা
স্থান ও সময়বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (রোববার, ৩০ আগস্ট)
বক্তাতাহসিনা রুশদীর লুনা (ইলিয়াস আলীর স্ত্রী)
মূল বক্তব্যগুমের শিকার পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা ও রাষ্ট্রীয় মদতে গুমের সমালোচনা

ছেলের পরীক্ষা ও বিভীষিকাময় স্মৃতি

ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পরের দিনগুলোর মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরে তাহসিনা রুশদীর বলেন, ১৭ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। এর পরের দিন ১৮ তারিখ তাঁর বড় ছেলের রসায়ন (কেমিস্ট্রি) পরীক্ষা ছিল। ছেলেকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক সিগনালে এক হকার পত্রিকা বিক্রি করার সময় চিৎকার করে বলছিল— ‘ইলিয়াস আলী গুম, ইলিয়াস আলী গুম’। বাবার গুম হওয়ার সেই নির্মম খবর শুনতে শুনতেই ছেলেটি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিল।

সামাজিক বিড়ম্বনা ও মেয়ের স্কুল বদল

গুমের শিকার পরিবারের সামাজিক বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট মেয়েটি স্কুলে গেলে মানুষ তাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করত, এমনকি অনেকে হাসাহাসিও করত। এই অসহনীয় পরিস্থিতির কারণে ছোট মেয়েটির স্কুল পর্যন্ত বদলাতে হয়েছিল। এরপর থেকে তাকে মিডিয়ার সামনে আসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের বড় হতে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মদতে গুম ও বিগত সরকারের আচরণ

তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁর বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন মানুষকে গুম করে। কিন্তু বাংলাদেশেই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় প্ররোচনায় ও মদতে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমন করার জন্য গুমের প্রচলন শুরু করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোকে বিগত সরকার এমনভাবে ট্রিট করত, যেন গুম হওয়ার জন্য পরিবারগুলোই দায়ী এবং তারাই সবচেয়ে বড় অপরাধী।

অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তা

গুমের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব এবং মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরে লুনা বলেন, “সারাক্ষণ মনের মধ্যে কাজ করে যে, আমাদের পরিবার গুম হয়েছে। আমরা যেখানেই যাই না কেন, মানুষের করুণা অথবা অদ্ভুত আচরণের শিকার হতে হয়। আসলে কোনো অবস্থাতেই এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের কোনো সুযোগ নেই।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১০:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১১৮ Time View

‘বাবা গুম শুনতে শুনতে ছেলে পরীক্ষা দিতে গেছে’: গুম প্রতিরোধ দিবসে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী

Update Time : ১০:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

“আমার স্বামী যখন গুম হয়, আমার বড় ছেলের তখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছিল। ট্রাফিক সিগনালে হকারের মুখে ‘ইলিয়াস আলী গুম’ শুনতে শুনতে আমার ছেলে পরীক্ষার হলে গিয়েছে।” আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এভাবেই সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সভার আয়োজন করা হয়।

একনজরে আলোচনা সভার বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
অনুষ্ঠানের নাম‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা
স্থান ও সময়বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (রোববার, ৩০ আগস্ট)
বক্তাতাহসিনা রুশদীর লুনা (ইলিয়াস আলীর স্ত্রী)
মূল বক্তব্যগুমের শিকার পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা ও রাষ্ট্রীয় মদতে গুমের সমালোচনা

ছেলের পরীক্ষা ও বিভীষিকাময় স্মৃতি

ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পরের দিনগুলোর মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরে তাহসিনা রুশদীর বলেন, ১৭ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। এর পরের দিন ১৮ তারিখ তাঁর বড় ছেলের রসায়ন (কেমিস্ট্রি) পরীক্ষা ছিল। ছেলেকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক সিগনালে এক হকার পত্রিকা বিক্রি করার সময় চিৎকার করে বলছিল— ‘ইলিয়াস আলী গুম, ইলিয়াস আলী গুম’। বাবার গুম হওয়ার সেই নির্মম খবর শুনতে শুনতেই ছেলেটি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিল।

সামাজিক বিড়ম্বনা ও মেয়ের স্কুল বদল

গুমের শিকার পরিবারের সামাজিক বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট মেয়েটি স্কুলে গেলে মানুষ তাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করত, এমনকি অনেকে হাসাহাসিও করত। এই অসহনীয় পরিস্থিতির কারণে ছোট মেয়েটির স্কুল পর্যন্ত বদলাতে হয়েছিল। এরপর থেকে তাকে মিডিয়ার সামনে আসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের বড় হতে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মদতে গুম ও বিগত সরকারের আচরণ

তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁর বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন মানুষকে গুম করে। কিন্তু বাংলাদেশেই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় প্ররোচনায় ও মদতে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমন করার জন্য গুমের প্রচলন শুরু করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোকে বিগত সরকার এমনভাবে ট্রিট করত, যেন গুম হওয়ার জন্য পরিবারগুলোই দায়ী এবং তারাই সবচেয়ে বড় অপরাধী।

অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তা

গুমের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব এবং মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরে লুনা বলেন, “সারাক্ষণ মনের মধ্যে কাজ করে যে, আমাদের পরিবার গুম হয়েছে। আমরা যেখানেই যাই না কেন, মানুষের করুণা অথবা অদ্ভুত আচরণের শিকার হতে হয়। আসলে কোনো অবস্থাতেই এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের কোনো সুযোগ নেই।”