জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও কূটনীতি
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও রূপান্তরের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
একনজরে জাতিসংঘ সম্মেলন ও সরকারের নতুন উদ্যোগসমূহ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| সম্মেলন | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন |
| স্থান ও সময় | নিউইয়র্ক (উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু ২১ সেপ্টেম্বর) |
| মূল পররাষ্ট্রনীতি | ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা) |
| ঐতিহাসিক নেতৃত্ব | সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান |
| প্রবাসীদের জন্য মেগা উদ্যোগ | ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা |
| বিনিয়োগ সুবিধা | ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক ও ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ বাস্তবায়ন |
‘নতুন সম্ভাবনা ও নতুন যাত্রা’: জাতিসংঘে তারেক রহমান
নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।”
তিনি জানান, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে।
ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্মান
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এই পদের জন্য প্রচারণা চালালেও বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চের আস্থা অর্জন করে এ পদ লাভ করেছে। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতি ও প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’
অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান:
- বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করা হয়েছে।
- ডিজিটাল পরিচয়: সব নাগরিকের তথ্য একীভূত করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
- প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং, পর্যটন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের নিজ নিজ নেটওয়ার্ক সক্রিয়ভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।





















