০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলে গেল জমির নামজারির নিয়ম: উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে এলো নতুন শর্ত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আইন

কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদ করতে নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি এই নামজারি প্রক্রিয়ায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে রেজিস্টার্ড ভাগ-বাটোয়ারা না হলে কোনো আলাদা খতিয়ান হবে না; বরং একই খতিয়ানে সব ওয়ারিশের নাম যৌথভাবে থাকবে।

যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন না হলেও, নামজারি ছাড়া জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা খাজনা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।

একনজরে নামজারির নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক:

বিষয়পরিবর্তিত নিয়ম ও তথ্য
উত্তরাধিকার জমির সাধারণ নিয়মসব ওয়ারিশের নামে যৌথ নামজারি (এক খতিয়ানে) বাধ্যতামূলক
যৌথ নামজারিতে যা লাগবেস্থানীয় জনপ্রতিনিধির (চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর) দেওয়া ওয়ারিশ সনদ
আলাদা খতিয়ান করার শর্তঅবশ্যই ‘নিবন্ধিত বা আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে
নামজারি না থাকার পরিণতিকোনো জমি বিক্রি, দান, হেবা বা খাজনা দেওয়া যাবে না
নিষ্পত্তির সময়সীমাআবেদন জমার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে

‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে, যেখানে তাঁদের ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে। আগে বাবা মারা গেলে ভাই-বোনদের যে কেউ নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন, এখন আর সেই সুযোগ থাকছে না। আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য ও ওয়ারিশ সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়লে আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে। তবে শুধু বণ্টননামা না থাকার অজুহাতে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না।

পৃথক খতিয়ান পেতে যা করণীয়

ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে আলাদা খতিয়ান করতে চান, তবে অবশ্যই ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে। অর্থাৎ, পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে লিখিত চুক্তিপত্র নিবন্ধন করালেই কেবল প্রত্যেকের নিজ নিজ নামে আলাদা খতিয়ান বা পৃথক নামজারি করা সম্ভব হবে।

নামজারি ছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন নয়

আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি কেনা-বেচা হতো। নতুন আইনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে কারও জমি যদি আগে থেকেই নামজারি করা থাকে (যেমন: ২০১৫ সালে) এবং খতিয়ান সঠিক থাকে, তবে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— পুরোনো রেকর্ডগুলো অনলাইনে (ডিজিটাইজড) আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে, নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষা পাবে এবং জালিয়াতি ও মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে— যেমন, কোনো ওয়ারিশ বিদেশে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেওয়া কঠিন হবে। এছাড়া ৪৫ দিনে নামজারি নিষ্পত্তির জন্য ভূমি অফিসগুলোতে জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৭:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৭ Time View

বদলে গেল জমির নামজারির নিয়ম: উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে এলো নতুন শর্ত

Update Time : ০৭:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও আইন

কেনা কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদ করতে নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি এই নামজারি প্রক্রিয়ায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে রেজিস্টার্ড ভাগ-বাটোয়ারা না হলে কোনো আলাদা খতিয়ান হবে না; বরং একই খতিয়ানে সব ওয়ারিশের নাম যৌথভাবে থাকবে।

যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন না হলেও, নামজারি ছাড়া জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা খাজনা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।

একনজরে নামজারির নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক:

বিষয়পরিবর্তিত নিয়ম ও তথ্য
উত্তরাধিকার জমির সাধারণ নিয়মসব ওয়ারিশের নামে যৌথ নামজারি (এক খতিয়ানে) বাধ্যতামূলক
যৌথ নামজারিতে যা লাগবেস্থানীয় জনপ্রতিনিধির (চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর) দেওয়া ওয়ারিশ সনদ
আলাদা খতিয়ান করার শর্তঅবশ্যই ‘নিবন্ধিত বা আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে
নামজারি না থাকার পরিণতিকোনো জমি বিক্রি, দান, হেবা বা খাজনা দেওয়া যাবে না
নিষ্পত্তির সময়সীমাআবেদন জমার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে

‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে, যেখানে তাঁদের ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে। আগে বাবা মারা গেলে ভাই-বোনদের যে কেউ নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন, এখন আর সেই সুযোগ থাকছে না। আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য ও ওয়ারিশ সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়লে আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে। তবে শুধু বণ্টননামা না থাকার অজুহাতে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না।

পৃথক খতিয়ান পেতে যা করণীয়

ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে আলাদা খতিয়ান করতে চান, তবে অবশ্যই ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে। অর্থাৎ, পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে লিখিত চুক্তিপত্র নিবন্ধন করালেই কেবল প্রত্যেকের নিজ নিজ নামে আলাদা খতিয়ান বা পৃথক নামজারি করা সম্ভব হবে।

নামজারি ছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশন নয়

আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি কেনা-বেচা হতো। নতুন আইনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে কারও জমি যদি আগে থেকেই নামজারি করা থাকে (যেমন: ২০১৫ সালে) এবং খতিয়ান সঠিক থাকে, তবে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— পুরোনো রেকর্ডগুলো অনলাইনে (ডিজিটাইজড) আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে, নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষা পাবে এবং জালিয়াতি ও মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে— যেমন, কোনো ওয়ারিশ বিদেশে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেওয়া কঠিন হবে। এছাড়া ৪৫ দিনে নামজারি নিষ্পত্তির জন্য ভূমি অফিসগুলোতে জনবল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।