০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানের মূল বার্তা:

বিবরণতথ্য
প্রধান অতিথিসালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
অনুষ্ঠানের স্থানঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা
তারিখশুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল বক্তব্য‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের অবসান ও নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার
নতুন পরিভাষা প্রস্তাব‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’-এর বদলে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি’

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে।” তিনি জানান, রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের মূল নীতিই হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

‘ভোট ব্যাংক’ মিথ ভেঙেছে জনগণ

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেকেই মনে করত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। কিন্তু এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা ও আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধানের চেতনা ও নতুন পরিভাষার আহ্বান

সংবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং এর দায়িত্বে থাকাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সরকার এই সাম্য ও সম্প্রীতিকে কেবল সংবিধানে বা কাগুজে রূপে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবেও নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে, আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৭:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪০ Time View

‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের প্রয়োজন নেই, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৭:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয়

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একনজরে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানের মূল বার্তা:

বিবরণতথ্য
প্রধান অতিথিসালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
অনুষ্ঠানের স্থানঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, ঢাকা
তারিখশুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূল বক্তব্য‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের অবসান ও নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার
নতুন পরিভাষা প্রস্তাব‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’-এর বদলে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি’

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে।” তিনি জানান, রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের মূল নীতিই হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

‘ভোট ব্যাংক’ মিথ ভেঙেছে জনগণ

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেকেই মনে করত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’। কিন্তু এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা ও আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধানের চেতনা ও নতুন পরিভাষার আহ্বান

সংবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং এর দায়িত্বে থাকাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। সরকার এই সাম্য ও সম্প্রীতিকে কেবল সংবিধানে বা কাগুজে রূপে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবেও নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে, আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব।”