জমি দখলদার ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ভূমিমন্ত্রী
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও সংসদ
দেশের স্বার্থ রক্ষায় জমি দখলদার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে সারা দেশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের সফলতার চিত্রও তিনি তুলে ধরেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের (আসন-৩২) সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন এক নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
একনজরে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযান ও সরকারি পদক্ষেপ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নতুন আইন/বিধিমালা | বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ |
| ভ্রাম্যমাণ আদালত (২০২৫ থেকে) | ৩,৯৭৬টি |
| চলতি বছর অভিযান (জানু-জুলাই) | ২,৬১৫টি |
| দায়েরকৃত মোট মামলা | ৪,০১৫টি |
| কারাদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি | ১,২১৬ জন |
| আদায়কৃত আর্থিক জরিমানা | ২২ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি |
সংসদে কড়া বার্তা ও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা
সংসদে জবাব দেওয়ার সময় ভূমিমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ‘দরবেশ বাবা’, ‘ভূমি বাবা’সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বৈরতন্ত্রের চর্চা দেখা গেছে। তারা বিভিন্নভাবে দেশকে শোষণ করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
বালুমহাল ব্যবস্থাপনা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
বালু ও মাটি উত্তোলন, বিপণন, পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরকার ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দিনরাত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৭৬টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২১৬ জনকে কারাদণ্ড এবং ২২ কোটির বেশি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা
পরিবেশবিদদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নদী ও খাল থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পানির স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং উদ্ভিদ ও মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়। অবৈধ এ কার্যক্রম শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও নদীপাড়ের মানুষের জীবিকার জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।





















