জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও সংসদ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ‘জুলাই সনদ’-এ যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, তার প্রতিটি দাড়ি-কমা-সেমিকোলন সরকার বাস্তবায়ন করবে। এজন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সেখানেই সংবিধান সংশোধন করা হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
একনজরে চিফ হুইপের সংবাদ সম্মেলনের মূল দিক:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| বক্তা | নূরুল ইসলাম মনি (চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদ) |
| মূল বার্তা | ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন |
| সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ | ২৭ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর (৯ কার্যদিবস) |
| পাস হওয়া বিল | ৬টি (যার মধ্যে বাবা-মায়ের সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অন্যতম) |
| অর্থনৈতিক অর্জন | গত পাঁচ মাসে বিগত সরকারের ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ |
| বিরোধী দলের মূল্যায়ন | পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) সভাপতি পদ বিরোধী দলকে প্রদান |
তৃতীয় অধিবেশনের সাফল্য ও যুগান্তকারী আইন
চিফ হুইপ জানান, মাত্র ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ৬টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংক্রান্ত আইন। অনেক সময় বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার রক্ষায় গুম প্রতিরোধ আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট, সার ও ঋণ পরিশোধ
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে এর সমাধান সম্ভব নয়। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ২-৩ বছর সময় লাগে। বিগত সরকারের আমলের ক্যাপাসিটি চার্জের কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার এসব চুক্তি পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি তিনি জানান, গত ৫ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার এবং দেশে বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে।
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অবস্থান ও এমওইউ পর্যালোচনা
সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বলে জানান নূরুল ইসলাম মনি। সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’র (পিএসি) সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে। ৩৯টি সংসদীয় কমিটিতেই বিরোধী দলের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।





















