সিলেটের পর্যটন ও চা শিল্পে প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও অর্থনীতি
সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এসব খাতে দেশীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
একনজরে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা ও দিকনির্দেশনা:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অনুষ্ঠান | সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা |
| প্রধান অতিথি | রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |
| বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত | পর্যটন, চা শিল্প, মৎস্য ও শিল্পখাত |
| বিশেষ বার্তা | দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা |
| চা রপ্তানির সম্ভাবনা | পাকিস্তানে সিলেটের চা রপ্তানির ইঙ্গিত |
| অন্যান্য উপস্থিতিবৃন্দ | বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপসহ বিশিষ্টজনেরা |
পর্যটন ও চা শিল্পে অপার সম্ভাবনা
সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর সব মিলিয়ে পর্যটন শিল্পে আরও উন্নতি করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
“আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্প অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
চা শিল্পের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সিলেটের চা বাগান শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে বিখ্যাত। সম্প্রতি পাকিস্তানের হাই কমিশনার সিলেট সফরে এসে এখান থেকে চা আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
মৎস্য খাত ও প্রবাসীদের অবদান
সিলেটের হাওরাঞ্চলে মাছ চাষের বিশাল সুবিধার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানকার খনিজ সম্পদ কাজে লাগিয়ে অনেক বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এসময় তিনি বৃহত্তর সিলেটের প্রবাসী সমাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তারা শুধু সিলেটের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
দেশ পুনর্গঠন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেশ পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি দেশবাসীকে সাধারণ ইস্যুগুলোতে একমত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা অনেকগুলো জাতি একসঙ্গে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে এখানকার কমিউনাল হারমনি।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি. কে. গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।





















