০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব কমাতে ছাদবাগান ও ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ের বিকল্প নেই

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও পরিবেশ

রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব কমিয়ে আনতে ভবনের ছাদে বাগান এবং দেয়ালে ‘ভার্টিকেল গার্ডেনিং’ বা উলম্ব বনায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, তীব্র দাবদাহ এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতা থেকে মেগাসিটি ঢাকাকে বাঁচাতে পরিকল্পিত সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেছেন তারা।

নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতোমধ্যে তাদের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

একনজরে ঢাকাকে বাসযোগ্য করার নতুন রূপরেখা:

উদ্যোগ / সমস্যারাজউক ও বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা
তাপমাত্রা কমানোর প্রধান উপায়ভবনে ছাদবাগান, ভার্টিকেল গার্ডেনিং ও এলাকাভিত্তিক ক্ষুদ্র বনায়ন
মডেল ‘গ্রিন ও স্মার্ট সিটি’পূর্বাচল মেগা প্রজেক্ট (বিশাল লেক ও বর্জ্য শোধন প্ল্যান্টসহ)
নতুন ভবন নির্মাণের শর্তবৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও মাটি শোষণের জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক
ড্যাপের বিশেষ লক্ষ্যজলাশয় ও সবুজের সমন্বয়ে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ তৈরি
পাইলট প্রজেক্ট (CRGAP)হাজারীবাগ ও লালবাগ এলাকায় টেকসই পরিবেশগত উন্নয়ন
তাপমাত্রা বৃদ্ধির বড় কারণগ্লাস আচ্ছাদিত বহুতল ভবন ও ৮-১০ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস

গ্লাস আচ্ছাদিত ভবন ও জলাশয় ধ্বংসই মূল কাল

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় যেসব বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই গ্লাস বা কাঁচ দিয়ে আচ্ছাদিত। এসব ভবনকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করায় বাইরে বিপুল পরিমাণ কার্বন ও তাপ নিঃসরণ হচ্ছে। এর পাশাপাশি শহরের ৮ থেকে ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাধার হারিয়ে যাওয়ায় উষ্ণতা শোষণের প্রাকৃতিক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জ্বালানি সাশ্রয়ী ‘গ্রিন বিল্ডিং মেটেরিয়ালস’ ব্যবহারের পাশাপাশি শহরের শিরা-উপশিরার মতো থাকা খালগুলোর পাড়ে বৃক্ষরোপণের তাগিদ দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাকে (২০২২-২০৩৫) পরিবেশবান্ধব উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার জানান, ঢাকাকে আধুনিকতা ও প্রকৃতির এক টেকসই ভারসাম্যে আনতে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলে সব ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জলাধার সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় ঢাকার চারপাশের পুকুর, খাল ও ডোবাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা আকস্মিক জলাবদ্ধতা দূর করবে।

নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এখন থেকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং পানি সরাসরি মাটিতে শোষিত হওয়ার জন্য উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হাজারীবাগ-লালবাগে বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান

ঐতিহাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন হওয়ায় রাজউক প্রাথমিকভাবে হাজারীবাগ ও লালবাগ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান (সিআরজিএপি)’ গ্রহণ করেছে। ট্যানারি স্থানান্তরের পর হাজারীবাগে সৃষ্ট পরিবেশগত শূন্যতা পুনরুদ্ধার করে সেখানে সবুজ বলয় তৈরির কাজ চলছে।

রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা। তাই গুলশান-বনানী লেক দূষণমুক্ত করাসহ অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমানে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসকোসহ সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে রাজউক।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১০:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৪১ Time View

ঢাকার ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব কমাতে ছাদবাগান ও ভার্টিকেল গার্ডেনিংয়ের বিকল্প নেই

Update Time : ১০:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও পরিবেশ

রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব কমিয়ে আনতে ভবনের ছাদে বাগান এবং দেয়ালে ‘ভার্টিকেল গার্ডেনিং’ বা উলম্ব বনায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, তীব্র দাবদাহ এবং আকস্মিক জলাবদ্ধতা থেকে মেগাসিটি ঢাকাকে বাঁচাতে পরিকল্পিত সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেছেন তারা।

নগরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতোমধ্যে তাদের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

একনজরে ঢাকাকে বাসযোগ্য করার নতুন রূপরেখা:

উদ্যোগ / সমস্যারাজউক ও বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা
তাপমাত্রা কমানোর প্রধান উপায়ভবনে ছাদবাগান, ভার্টিকেল গার্ডেনিং ও এলাকাভিত্তিক ক্ষুদ্র বনায়ন
মডেল ‘গ্রিন ও স্মার্ট সিটি’পূর্বাচল মেগা প্রজেক্ট (বিশাল লেক ও বর্জ্য শোধন প্ল্যান্টসহ)
নতুন ভবন নির্মাণের শর্তবৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও মাটি শোষণের জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক
ড্যাপের বিশেষ লক্ষ্যজলাশয় ও সবুজের সমন্বয়ে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ তৈরি
পাইলট প্রজেক্ট (CRGAP)হাজারীবাগ ও লালবাগ এলাকায় টেকসই পরিবেশগত উন্নয়ন
তাপমাত্রা বৃদ্ধির বড় কারণগ্লাস আচ্ছাদিত বহুতল ভবন ও ৮-১০ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস

গ্লাস আচ্ছাদিত ভবন ও জলাশয় ধ্বংসই মূল কাল

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় যেসব বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই গ্লাস বা কাঁচ দিয়ে আচ্ছাদিত। এসব ভবনকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করায় বাইরে বিপুল পরিমাণ কার্বন ও তাপ নিঃসরণ হচ্ছে। এর পাশাপাশি শহরের ৮ থেকে ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক জলাধার হারিয়ে যাওয়ায় উষ্ণতা শোষণের প্রাকৃতিক ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জ্বালানি সাশ্রয়ী ‘গ্রিন বিল্ডিং মেটেরিয়ালস’ ব্যবহারের পাশাপাশি শহরের শিরা-উপশিরার মতো থাকা খালগুলোর পাড়ে বৃক্ষরোপণের তাগিদ দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাকে (২০২২-২০৩৫) পরিবেশবান্ধব উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ মাহফুজা আক্তার জানান, ঢাকাকে আধুনিকতা ও প্রকৃতির এক টেকসই ভারসাম্যে আনতে ‘ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলে সব ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জলাধার সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় ঢাকার চারপাশের পুকুর, খাল ও ডোবাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা আকস্মিক জলাবদ্ধতা দূর করবে।

নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এখন থেকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং পানি সরাসরি মাটিতে শোষিত হওয়ার জন্য উন্মুক্ত স্থান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হাজারীবাগ-লালবাগে বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান

ঐতিহাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন হওয়ায় রাজউক প্রাথমিকভাবে হাজারীবাগ ও লালবাগ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট গ্রিন অ্যাকশন প্ল্যান (সিআরজিএপি)’ গ্রহণ করেছে। ট্যানারি স্থানান্তরের পর হাজারীবাগে সৃষ্ট পরিবেশগত শূন্যতা পুনরুদ্ধার করে সেখানে সবুজ বলয় তৈরির কাজ চলছে।

রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা। তাই গুলশান-বনানী লেক দূষণমুক্ত করাসহ অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমানে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসকোসহ সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে রাজউক।