০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা, তথ্য উঠবে ডোসিয়ারে

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও প্রশাসন

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনা ঘটলেই কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একইসঙ্গে কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের করা তদবিরের বিস্তারিত তথ্য সরাসরি ওই কর্মচারীর ডোসিয়ারে (চাকরি সংক্রান্ত নথি) সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত কড়া নির্দেশনা দিয়ে সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

একনজরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনা:

বিবরণবিস্তারিত তথ্য
নির্দেশনা প্রদানকারীমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
যাদের প্রতি নির্দেশনাসকল সরকারি কর্মচারী
চিঠি যাদের পাঠানো হয়েছেসচিব, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি এবং ইউএনও
লঙ্ঘিত আইনআচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (বিধি ২০) ও শৃঙ্খলা-আপিল বিধিমালা ২০১৮
শাস্তিমূলক ব্যবস্থাবিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডোসিয়ারে তথ্য সংরক্ষণ
বৈধ আবেদনের নিষ্পত্তিযথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা আবেদন সর্বোচ্চ ১ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন ও অসদাচরণ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের কেউ কেউ চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

এ কারণে তদবিরের প্রমাণ মিললেই শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ডোসিয়ারে তা স্থায়ীভাবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনের বৈধ উপায় ও সময়সীমা

তদবিরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কর্মচারীদের বৈধ আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারী তাঁর চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৮:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৫ Time View

সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা, তথ্য উঠবে ডোসিয়ারে

Update Time : ০৮:৫৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও প্রশাসন

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনা ঘটলেই কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একইসঙ্গে কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের করা তদবিরের বিস্তারিত তথ্য সরাসরি ওই কর্মচারীর ডোসিয়ারে (চাকরি সংক্রান্ত নথি) সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত কড়া নির্দেশনা দিয়ে সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

একনজরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনা:

বিবরণবিস্তারিত তথ্য
নির্দেশনা প্রদানকারীমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
যাদের প্রতি নির্দেশনাসকল সরকারি কর্মচারী
চিঠি যাদের পাঠানো হয়েছেসচিব, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি এবং ইউএনও
লঙ্ঘিত আইনআচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (বিধি ২০) ও শৃঙ্খলা-আপিল বিধিমালা ২০১৮
শাস্তিমূলক ব্যবস্থাবিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডোসিয়ারে তথ্য সংরক্ষণ
বৈধ আবেদনের নিষ্পত্তিযথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা আবেদন সর্বোচ্চ ১ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি

আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন ও অসদাচরণ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের কেউ কেউ চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

এ কারণে তদবিরের প্রমাণ মিললেই শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ডোসিয়ারে তা স্থায়ীভাবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনের বৈধ উপায় ও সময়সীমা

তদবিরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কর্মচারীদের বৈধ আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারী তাঁর চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।