দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও অপরাধ
রাজধানীর ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একনজরে রিমান্ড ও মামলার বিস্তারিত তথ্য:
| বিবরণ | তথ্য |
| মামলার ধরন | আত্মহত্যায় প্ররোচনা |
| আসামি | এমপি গাজী নজরুল, মাকসুদা বেগম (প্রথম স্ত্রী) ও ওবায়দুর রহমান |
| রিমান্ড আবেদন | ৭ দিন |
| তদন্ত কর্মকর্তা | এসআই শামসুজ্জোহা সরকার (শেরেবাংলা নগর থানা) |
যেভাবে দায়ের হলো আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামসুজ্জোহা সরকার আদালতে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন জমা দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নির্যাতনের অভিযোগ ও আত্মহত্যার নেপথ্য
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুর রহমানের মধ্যস্থতায় গত জুন মাসে ইসলামী শরিয়ত মেনে এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেই বসবাস করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও নজরুলের যোগসাজশে মরিয়মের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, যা তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এমপি নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এসময় বিছানার ওপর একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, আসামিদের অমানবিক নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরেই মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
ভিডিও কেলেঙ্কারি ও জামায়াত থেকে বহিষ্কার
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে গাজী নজরুল ও মরিয়ম খাতুনের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
আগের মামলার বাদী এবার নিজেই আসামি
ভিডিও ফাঁসের পর গত ২১ জুলাই মরিয়মের মামা এবং এমপির গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় নজরুলের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পান নজরুল। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মরিয়মের বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নতুন এই মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।





















