০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একসূত্রে গাঁথা: রোম সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | পরিবেশ ও জলবায়ু

পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালো মত দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং আমাদের পুরো বাস্তুতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক; তাই এগুলোকে সমন্বিতভাবেই বিবেচনা করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ শীর্ষক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

একনজরে রোম সম্মেলনের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
সম্মেলনের নামকৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম
স্থানএফএও সদর দপ্তর, রোম, ইতালি
সময়কাল২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর
বাংলাদেশের প্রতিনিধিপরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও ‘ওয়ান হেলথ’ নীতি

পরিবেশমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ হওয়ায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকায় একটির ক্ষতি হলে অন্যটিও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিচ্ছিন্নভাবে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ‘ওয়ান হেলথ’ নীতিকে কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। দেশের পরিবেশ খাতকে জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোর মূল অংশীদার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এখন প্রান্তিক ও জেলা পর্যায়ে এর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আসন্ন কপ৩১ ও বৈশ্বিক সমন্বয়

আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ (COP31) সম্মেলনের আগে রোমের এই আলোচনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, রোমের এই অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর মঞ্চে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পরিবেশগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৈশ্বিক তহবিল, যৌথ পরিকল্পনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনেতারা

উদ্বোধনী এই অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক দংইউ ছু-এর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মুইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুরো ম্যাকুতসহ ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, মোজাম্বিক ও কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১১:১৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৭ Time View

মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একসূত্রে গাঁথা: রোম সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী

Update Time : ১১:১৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | পরিবেশ ও জলবায়ু

পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালো মত দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং আমাদের পুরো বাস্তুতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক; তাই এগুলোকে সমন্বিতভাবেই বিবেচনা করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ শীর্ষক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

একনজরে রোম সম্মেলনের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
সম্মেলনের নামকৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম
স্থানএফএও সদর দপ্তর, রোম, ইতালি
সময়কাল২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর
বাংলাদেশের প্রতিনিধিপরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও ‘ওয়ান হেলথ’ নীতি

পরিবেশমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ হওয়ায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকায় একটির ক্ষতি হলে অন্যটিও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিচ্ছিন্নভাবে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ‘ওয়ান হেলথ’ নীতিকে কেবল তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। দেশের পরিবেশ খাতকে জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোর মূল অংশীদার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এখন প্রান্তিক ও জেলা পর্যায়ে এর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আসন্ন কপ৩১ ও বৈশ্বিক সমন্বয়

আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ (COP31) সম্মেলনের আগে রোমের এই আলোচনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, রোমের এই অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর মঞ্চে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। পরিবেশগত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৈশ্বিক তহবিল, যৌথ পরিকল্পনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনেতারা

উদ্বোধনী এই অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক দংইউ ছু-এর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মুইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুরো ম্যাকুতসহ ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, মোজাম্বিক ও কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।