পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই আগুন ও ককটেল হামলার রহস্য বের হবে: রাশেদ খান
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় রাজনীতি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঢাকা শহরে বাসে আগুন ও ককটেল হামলার আসল হোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
একনজরে রাশেদ খানের মূল বক্তব্য:
| বিষয় | মন্তব্য/অভিযোগ |
| ককটেল হামলা ও অগ্নিসন্ত্রাস | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই সব বের হয়ে আসবে |
| বিএনপির চ্যালেঞ্জ | ১১ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগকে সামলে দেশ পরিচালনা |
| বিরোধীদের ষড়যন্ত্র | জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ মিলে দেশকে অশান্ত করছে |
| জ্বালানি তেলের দাম | আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার |
বিরোধীদের যুগপৎ কর্মসূচি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকার এবং বিএনপি এক বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ তাদের ১১ দলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগের মতো দুটি বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিরোধী দলগুলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী কর্মসূচি শুরুর পাঁয়তারা করছে, যে সময়ে শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
তার দাবি, দেশকে অশান্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত, এনসিপি ও নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল হামলা চালাচ্ছে। রাশেদ খান বলেন, “এনসিপির এক নেতাই স্বীকার করেছেন যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। আবার তাদেরই আরেক নেতা দাবি করছেন— ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল আর ফুটবে না। যারা একটি নির্বাচিত সরকারকে এভাবে ব্যর্থ করতে চায়, তারা কি অপরাধ করছে না?”
লংমার্চের সমালোচনা ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি
জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান। বর্তমান সরকারের সাত মাসের মাথায় লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এর নামে পিকনিক স্টাইলে ছবি ও ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমগ্র বিশ্বেই এখন জ্বালানি সংকট চলছে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকার যে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে কোনো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না।
আদানি ইস্যু ও বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে অনেকেই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী। বিদ্যুৎ খাতে আদানির চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আদানি কখনো বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার কখনো দিচ্ছে না, যা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।
পাশাপাশি, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর চলমান বিদেশ সফর ঘিরে আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে বসে তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ঘৃণ্য খেলায় মেতেছে।




















