সফল জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর বার্তা
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই নিউজ ডেক্স | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে (UNGA 81) এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সফল অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে[cite: 2]। এর আগে নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দর ত্যাগ করেছিলেন তিনি[cite: 2]। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি[cite: 2]।
একনজরে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের পরিসংখ্যান:
| বিবরণ | তথ্য |
| দেশে ফেরার সময় | ২৭ সেপ্টেম্বর, সকাল ৮:৩০ মিনিট |
| মোট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ | ৩০টির বেশি ইভেন্ট ও অধিবেশন |
| দ্বিপক্ষীয় বৈঠক | ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে |
| প্রধান আলোচ্য ইস্যু | রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তা[cite: 2] |
| কৌশলগত সিদ্ধান্ত | জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে বোয়িং চুক্তি |
বিশ্বমঞ্চে আত্মমর্যাদা ও নতুন বাংলাদেশের বার্তা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পর তাঁর সফরসঙ্গী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের সামনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি এই সফরকে শতভাগ ফলপ্রসূ এবং ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেন[cite: 2]। মাহদী আমিন জানান, বিগত বহু বছর পর বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত কোনো সরকারপ্রধান বিশ্বদরবারে প্রতিনিধিত্ব করলেন এবং বিশ্বনেতারা তাঁকে অত্যন্ত সাদরে গ্রহণ করেছেন।
এই চার দিনের মূল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন[cite: 2]। মাহদী আমিনের মতে, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মমর্যাদাবোধ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে[cite: 2]। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো খাতগুলোতে নারী ও তরুণদের জন্য সরকারের নতুন পলিসি বা পরিকল্পনার কথা বিশ্বদরবারে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
কূটনৈতিক সাফল্য, বোয়িং চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কজাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন[cite: 2]। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, বহুল আলোচিত ‘বোয়িং কেনার চুক্তি’ কোনো আন্তর্জাতিক মহলের বা বাইরের কোনো দেশের চাপে করা হয়নি; বরং সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে মূলত বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জোর এই সফরের অন্যতম বড় একটি দিক ছিল আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি পুনরায় রোহিঙ্গা সংকটের দিকে নিবদ্ধ করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বনেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান[cite: 2]। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সংকট ও ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বিষয়টিতেও তিনি জোর দিয়েছেন[cite: 2]। সব মিলিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে একটি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জাতিসংঘ সফর কেবল একটি রুটিন আন্তর্জাতিক সফর ছিল না; এটি ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত এক ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর আত্মবিশ্বাসী বৈশ্বিক আত্মপ্রকাশ। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে যে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন, তা দেশের ভবিষ্যৎ কূটনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক বিশাল মাইলফলক।
কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে বোয়িং চুক্তির মতো স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন সমতা ও নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্যগুলো আগামী দিনে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।




















