০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা, কাঁদলেন চেয়ারম্যান

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে ঘিরে উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণ করতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জনতার সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং চাল বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে ৫৫৮টি বিএনপির জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হয়, যেখানে প্রতিটি সদস্য পান ২০০টি করে স্লিপ।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সারোয়ার হোসেন চৌধুরী চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোর করে নিয়ে নেন। এছাড়া আরও স্লিপ দাবি করা হলে জনপ্রতিনিধিরা বিপাকে পড়েন, কারণ তারা আগেই উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করেছিলেন।

সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক স্লিপ নেওয়া হয়েছে এবং পরে অতিরিক্ত স্লিপ চাওয়া হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরেক সদস্য ফরিদা বেগম জানান, তার কাছে ২০০ জনের তালিকা থাকলেও তাকে মাত্র ৯০টি স্লিপ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কিছু চাল তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল বলেন, ভয়ের কারণে তারা স্লিপ দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত স্লিপ দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, এখনও ১৪২ বস্তা চাল বিতরণ বাকি রয়েছে।

তবে সারোয়ার হোসেন চৌধুরী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো স্লিপ নেননি বা কাউকে হুমকি দেননি। তার দাবি, চেয়ারম্যান ও কিছু সদস্য অনিয়মের মাধ্যমে স্লিপ বণ্টন করেছেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০৫:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
২১ Time View

ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা, কাঁদলেন চেয়ারম্যান

Update Time : ০৫:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে ঘিরে উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণ করতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জনতার সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং চাল বিতরণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে ৫৫৮টি বিএনপির জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা হয়, যেখানে প্রতিটি সদস্য পান ২০০টি করে স্লিপ।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সারোয়ার হোসেন চৌধুরী চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোর করে নিয়ে নেন। এছাড়া আরও স্লিপ দাবি করা হলে জনপ্রতিনিধিরা বিপাকে পড়েন, কারণ তারা আগেই উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করেছিলেন।

সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক স্লিপ নেওয়া হয়েছে এবং পরে অতিরিক্ত স্লিপ চাওয়া হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরেক সদস্য ফরিদা বেগম জানান, তার কাছে ২০০ জনের তালিকা থাকলেও তাকে মাত্র ৯০টি স্লিপ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কিছু চাল তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল বলেন, ভয়ের কারণে তারা স্লিপ দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত স্লিপ দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, এখনও ১৪২ বস্তা চাল বিতরণ বাকি রয়েছে।

তবে সারোয়ার হোসেন চৌধুরী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো স্লিপ নেননি বা কাউকে হুমকি দেননি। তার দাবি, চেয়ারম্যান ও কিছু সদস্য অনিয়মের মাধ্যমে স্লিপ বণ্টন করেছেন এবং বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।