০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের জায়গায় ইতালি কি যাচ্ছে বিশ্বকাপে?-যা জানালো ফিফা

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত প্রস্তাব দিলেও বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে খেলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই ফিফার। বৈশ্বিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র বিবিসিকে এই খবর জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘নিশ্চিত করছি যে আমি ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে পরামর্শ দিয়েছি, যাতে বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে নেওয়া হয়।’

জাম্পোলির এই প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে ফিফার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন, সেই তিক্ততা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির সম্পর্ক মসৃণ করতেই জাম্পোলি এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি গত মাসে বসনিয়া ও হারজেগোভিনার কাছে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ফাইনালে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের। ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ মিসরের বিপক্ষে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে বা বহিষ্কৃত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ ফিফার। বিশ্বকাপের নীতিমালার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘ফিফা চাইলে সংশ্লিষ্ট সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তবে ফিফা এখন পর্যন্ত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা আশা করি, তত দিনে (বিশ্বকাপ শুরুর সময়) পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হবে। সেটি অবশ্যই সহায়ক হবে; কিন্তু ইরানকে আসতে হবে যদি তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। তারা কোয়ালিফাই করেছে, প্রকৃতপক্ষে বেশ ভালো একটি দলও। তারা সত্যিই খেলতে চায় এবং তাদের খেলা উচিত। খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।’

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফিফার বিশ্বকাপ নীতিমালা বলছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রথম ম্যাচের অন্তত পাঁচ দিন আগে অনুশীলন ক্যাম্পে পৌঁছাবে। সে হিসাবে ১০ জুনের মধ্যে ইরান ফুটবল দলের অ্যারিজোনার টুসনে অবস্থিত ট্রেনিং ক্যাম্পে পৌঁছানোর কথা।




Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
১২০ Time View

ইরানের জায়গায় ইতালি কি যাচ্ছে বিশ্বকাপে?-যা জানালো ফিফা

Update Time : ১০:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত প্রস্তাব দিলেও বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে খেলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই ফিফার। বৈশ্বিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র বিবিসিকে এই খবর জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘নিশ্চিত করছি যে আমি ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে পরামর্শ দিয়েছি, যাতে বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে নেওয়া হয়।’

জাম্পোলির এই প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সূত্র বলছে, প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে ফিফার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন, সেই তিক্ততা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির সম্পর্ক মসৃণ করতেই জাম্পোলি এই পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি গত মাসে বসনিয়া ও হারজেগোভিনার কাছে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ফাইনালে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের। ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ মিসরের বিপক্ষে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে বা বহিষ্কৃত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ ফিফার। বিশ্বকাপের নীতিমালার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘ফিফা চাইলে সংশ্লিষ্ট সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তবে ফিফা এখন পর্যন্ত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা আশা করি, তত দিনে (বিশ্বকাপ শুরুর সময়) পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হবে। সেটি অবশ্যই সহায়ক হবে; কিন্তু ইরানকে আসতে হবে যদি তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। তারা কোয়ালিফাই করেছে, প্রকৃতপক্ষে বেশ ভালো একটি দলও। তারা সত্যিই খেলতে চায় এবং তাদের খেলা উচিত। খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।’

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ‘ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফিফার বিশ্বকাপ নীতিমালা বলছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রথম ম্যাচের অন্তত পাঁচ দিন আগে অনুশীলন ক্যাম্পে পৌঁছাবে। সে হিসাবে ১০ জুনের মধ্যে ইরান ফুটবল দলের অ্যারিজোনার টুসনে অবস্থিত ট্রেনিং ক্যাম্পে পৌঁছানোর কথা।