নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে পরশুই দেশে ফিরবেন সাকিব আল হাসান
ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দল পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা তার কখনোই ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল কোণঠাসা থাকলেও এটি স্থায়ী হবে না বলেও তার বিশ্বাস।
একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাকিব। দলের প্রতি আনুগত্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ছোট দলেও খেললেও সবসময় সেই দলের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন, তাই দলবদলের অভ্যাস তার নেই।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে দীর্ঘদিন দমন করে রাখা সম্ভব নয় এবং এটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। জোর করে কিছু সময় চাপ প্রয়োগ করা গেলেও তা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকলে এই চক্র কখনোই শেষ হবে না। কোনো একটি দলকে উদ্যোগ নিয়ে এই ধারা বন্ধ করতে হবে—তবেই তারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আবারও তাকে ভোট দেবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেও পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব জানান, তিনি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে যেন হয়রানির শিকার না হন—এটাই তার চাওয়া। এই নিশ্চয়তা পেলে তিনি পরশুই দেশে ফিরতে প্রস্তুত বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তার মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, চেক জালিয়াতি ও শেয়ারবাজার সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার মুখোমুখি হতে চাইলেও নিরাপত্তা ও হয়রানির আশঙ্কাকেই দেশে ফেরার প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন তিনি।


























