০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ‘সাহসী’ হবে না, ধারণা সালমান আগার

মিরপুর টেস্ট যে এখন রোমাঞ্চকর শেষের অপেক্ষায়, তা তো স্কোরকার্ড দেখেই বুঝা যাচ্ছে। তবু যদি আপনার কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে চতুর্থ দিন শেষে দুই দলের সংবাদ সম্মেলনের কথাগুলো শুনতে পারেন। বাংলাদেশকে সেখানে চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৫২ রান, লিড ১৭৯ রানের। আজ শেষ দিকে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করা স্বাগতিকদের পরিকল্পনা, আগামীকাল সকালেও কিছুক্ষণ ব্যাটিং করা। এরপর বাকি ভরসাটা বোলারদের ওপর।

এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘আমরা জেতার জন্য খেলছি। আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, যদি বৃষ্টি না হয় ৯৮ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে ৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে আমাদের জেতার সুযোগ থাকবে।’

কিন্তু বাংলাদেশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দলের প্রতিনিধি হয়ে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে অলরাউন্ডার সালমান আগা যেটা বলেছেন, তা এক বাক্যে দাঁড়ায় এমন, পারলে ৭০-৭৫ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দিয়ে দেখো! তাঁর ধারণা, বাংলাদেশ সে সাহসই দেখাবে না।

বাংলাদেশ তেমন কিছু করলে পাকিস্তান জয়ের জন্যই খেলবে বলে জানিয়েছেন সালমান, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য যাব। যদি তারা যথেষ্ট সাহসী হয় এটা করার জন্য, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তাহলে তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় না তারা তা করবে।’

চতুর্থ দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় বাধা হয়েছে বৃষ্টি। একটা সেশন পুরোপুরিই ভেসে গেছে। সারা দিনে খেলাও হয়েছে কেবল ৪৮.৪ ওভার। তবে প্রথম ইনিংসে ওভারপ্রতি সাড়ে তিনের বেশি গড়ে রান তোলা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩.০১ গড়ে রান তুলছে। বৃষ্টির পরপরই বাংলাদেশের লিড দেড় শ ছাড়িয়ে যায়।

তখন কি রানের গতি আরেকটু বাড়ানো দরকার ছিল? উত্তরে আশরাফুল বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে খেলতে হয়, ওইভাবেই খেলেছে। বৃষ্টি তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি বলব উইকেটে যে সাহায্য আছে, আমরা যদি কাল সকালে একটু ভালো ব্যাটিং করে ছেড়ে দেই, এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’

কিন্তু সেটি বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন সালমান। দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করে তাই ম্যাচটা জেতারই লক্ষ্য তাদের। তবে বাংলাদেশ যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে ২০-২৫ ওভারে আরও ১০০ থেকে ১২০ রান করে ছেড়ে দেয়, তখন কী হবে?

সালমান আগার উত্তর, ‘যদি তারা তা করে, তাহলে তো খুবই ভালো, কিন্তু এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। আমি অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে চাই তারা এমন করুক।’ বাংলাদেশ তেমন কিছু করলে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাই দেখছেন তিনি, ‘ও রকম কিছু করলে দুই দিকেই খেলাটা থাকবে। তাদের জন্য প্রথম প্রাধান্য পাবে আমাদের থেকে ম্যাচটা কেড়ে নেওয়া, তারপর যা করতে চায় করবে। কিন্তু যদি তারা ৭০ ওভারে ২৬০-৭০ রান দেয়, আমরা তাড়া করে ফেলব।’

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৪২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
১৮৫ Time View

বাংলাদেশ ‘সাহসী’ হবে না, ধারণা সালমান আগার

Update Time : ০৯:৪২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মিরপুর টেস্ট যে এখন রোমাঞ্চকর শেষের অপেক্ষায়, তা তো স্কোরকার্ড দেখেই বুঝা যাচ্ছে। তবু যদি আপনার কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে চতুর্থ দিন শেষে দুই দলের সংবাদ সম্মেলনের কথাগুলো শুনতে পারেন। বাংলাদেশকে সেখানে চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৫২ রান, লিড ১৭৯ রানের। আজ শেষ দিকে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করা স্বাগতিকদের পরিকল্পনা, আগামীকাল সকালেও কিছুক্ষণ ব্যাটিং করা। এরপর বাকি ভরসাটা বোলারদের ওপর।

এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘আমরা জেতার জন্য খেলছি। আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, যদি বৃষ্টি না হয় ৯৮ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে ৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে আমাদের জেতার সুযোগ থাকবে।’

কিন্তু বাংলাদেশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দলের প্রতিনিধি হয়ে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে অলরাউন্ডার সালমান আগা যেটা বলেছেন, তা এক বাক্যে দাঁড়ায় এমন, পারলে ৭০-৭৫ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দিয়ে দেখো! তাঁর ধারণা, বাংলাদেশ সে সাহসই দেখাবে না।

বাংলাদেশ তেমন কিছু করলে পাকিস্তান জয়ের জন্যই খেলবে বলে জানিয়েছেন সালমান, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য যাব। যদি তারা যথেষ্ট সাহসী হয় এটা করার জন্য, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তাহলে তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় না তারা তা করবে।’

চতুর্থ দিন বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় বাধা হয়েছে বৃষ্টি। একটা সেশন পুরোপুরিই ভেসে গেছে। সারা দিনে খেলাও হয়েছে কেবল ৪৮.৪ ওভার। তবে প্রথম ইনিংসে ওভারপ্রতি সাড়ে তিনের বেশি গড়ে রান তোলা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩.০১ গড়ে রান তুলছে। বৃষ্টির পরপরই বাংলাদেশের লিড দেড় শ ছাড়িয়ে যায়।

তখন কি রানের গতি আরেকটু বাড়ানো দরকার ছিল? উত্তরে আশরাফুল বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে খেলতে হয়, ওইভাবেই খেলেছে। বৃষ্টি তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি বলব উইকেটে যে সাহায্য আছে, আমরা যদি কাল সকালে একটু ভালো ব্যাটিং করে ছেড়ে দেই, এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’

কিন্তু সেটি বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না বলে মনে করেন সালমান। দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করে তাই ম্যাচটা জেতারই লক্ষ্য তাদের। তবে বাংলাদেশ যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে ২০-২৫ ওভারে আরও ১০০ থেকে ১২০ রান করে ছেড়ে দেয়, তখন কী হবে?

সালমান আগার উত্তর, ‘যদি তারা তা করে, তাহলে তো খুবই ভালো, কিন্তু এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। আমি অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে চাই তারা এমন করুক।’ বাংলাদেশ তেমন কিছু করলে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাই দেখছেন তিনি, ‘ও রকম কিছু করলে দুই দিকেই খেলাটা থাকবে। তাদের জন্য প্রথম প্রাধান্য পাবে আমাদের থেকে ম্যাচটা কেড়ে নেওয়া, তারপর যা করতে চায় করবে। কিন্তু যদি তারা ৭০ ওভারে ২৬০-৭০ রান দেয়, আমরা তাড়া করে ফেলব।’